নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় ১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৭জন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিস। অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে হাজির না হওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তর থেকে তাদের শোকজ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারি) ১৯ জন ও গত বুধবার (১৬ জানুয়ারি) ২৮ জন শিক্ষককে শোকজ করা হয়। শিক্ষকদের আগামী সাত কর্মদিবেসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল-ইমরান রুহুল ইসলাম এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক গত বুধবার (১৬ জানুয়ারি) ও বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের ভিত্তিতে ৪৭ জন শিক্ষককে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে শোকজ করা হয়।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর (শোকজ) ওই চিঠিতে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে হাজির না হওয়া, প্রায় সময়ই বিদ্যালয়ে বিলম্বে আসা এবং নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই বিদ্যালয় থেকে চলে যাওয়া এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা উপেক্ষা করার মতো অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তাবায়নে বিরাট অন্তরায় ও চাকুরিবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরো পড়ুন: মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের প্রয়ান দিবস পালিত
এর প্রেক্ষিতে ‘কেন গণকর্মচারী শৃংখলা (নিয়মিত উপস্থিতি) অধ্যাদেশ, ১৯৮২ এর ৬ ধারা মোতাবেক বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট সুপারিশ করা হবে না’ মর্মে চিঠি প্রাপ্তির সাত কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক জানান, ‘শিক্ষকদের বিদ্যালয়মুখী এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে আগ্রহী করাসহ মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যা অব্যাহত থাকবে।’
ইত্তেফাক/অনি
