চীনের আগ্রাসনে শিশুকে হারিয়ে দিশেহারা এক মুসলিম বাবা

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:৫৩

   আমি আমার ছেলে পয়জুল্লাহকে খুব মিস করি। আমি যখন তাকে ছেড়ে আসি তার বয়স তখন আড়াই বছর। এখন তার বয়স সাড়ে ছয় তবে আমি জানি না সে কোথায় আছে। একটি টুইট বার্তায় এভাবেই চীনের আগ্রাসনের কারণে হারানো ছেলের কথা স্মরণ করছিলেন চীনের উইঘুর মুসলিম ব্যবসায়ী হাসান।

  জিনজিয়াং প্রদেশের বাসিন্দা হাসান চীন ছেড়ে এখন থাকেন তুরস্কতে।তবে চীনে ছাড়ার পর সে তার পরিবারের সঙ্গে আরো যোগাযোগ করতে পারেননি। এমনটি জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা উইঘুর ফ্রিডস হেরাল্ড।

জানা গেছে,চীনের আগ্রাসনের জন্য ২০১৭ সালের তুরস্কের উদ্দেশে চীন ত্যাগ করেন হাসান। ঐ সময় চীন জিনজিয়াংয়ের প্রভাবশালী উইঘুর নেতাদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় শুরু করে।  

এর আগে আরেকটি টুইট বার্তায় হাসান জানিয়েছিলেন যে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছিলো চীনের সেনারা। জানা গেছে, গত ছয় বছর ধরে জিনজিয়াং প্রদেশের মুসলমানদের   ডিটেনশন ক্যাম্প  বন্দি করে রাখছে চীন সরকার। সেখানে তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালান হয় বলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। 

 ২০১৮ সালে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইস্তিকলা টিভিতে প্রথমবারের মতো চীনের আগ্রাসনে বিরুদ্ধে মুখ খোলেন হাসান। ওই সাক্ষাতকারে  উইঘুর মুসলিমদের ওপর নির্মম নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলে আমাদের প্রথম অপরাধ হচ্ছে আমরা উইঘুর। দ্বিতীয়ত অন্যান্য উইঘুর মুসলিমদের মতো আমার মা এবং স্ত্রীকেও ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়ে এবং তাদের ব্রেনওয়াশ করা  হচ্ছে।   আমি চাই এমন নির্যাতন না করে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক। এতে তারা  চীন সরকারের অত্যাচার থেকে মুক্তি পাবে 

 তবে চীন সরকার উইঘুর মুসলিমদের ওপর অত্যাচারের কথা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। 

ইত্তেফাক/এআর