এসএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথমপত্র

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ২০:৩৫

মোস্তাফিজুর রহমান লিটন

সিনিয়র শিক্ষক, বাংলা

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ

মানুষ মুহম্মদ (স.)

 

১. নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

ইসলামের একজন বিশিষ্ট রাসুল হযরত দাউদ (আ)। মানুষকে সঠিক পথে আনা ও সত্ পথ দেখানোর জন্য তাঁর ওপর যাবুর কিতাব অবতীর্ণ হয়। হযরত দাউদ (আ) সুমধুর সুরে যাবুর পাঠ করতেন। নদীর বিভিন্ন প্রজাতির মাছ তাঁর পাঠ শুনতে নদীর এক কোণে জড় হতো। আর তাই সেখানকার মানুষকে তিনি শনিবার দিন মাছ ধরতে নিষেধ করেন। আর এ কথা বলে সতর্ক করে দেন যে, ‘যারা শনিবার মাছ ধরবে তাদের ওপর সৃষ্টিকর্তা শাস্তি বর্ষণ করবেন’। কিছু লোক তাঁর কথা না শুনে নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরলে সে লোকগুলো বানরে পরিণত হয় এবং মৃত্যুবরণ করে।

ক. আহযাবের যুদ্ধের অপর নাম কী? ১

খ. “আমি রাজা নই, সম্রাট নই, মানুষের প্রভু নই।” ব্যাখ্যা করো।     ২

গ. হযরত দাউদ (আ) এর সাথে প্রবন্ধের হযরত মুহম্মদ (স.)-এর বৈসাদৃশ্য তুলে ধরো।                    ৩

ঘ. হযরত দাউদ (আ) ঐ লোকদেরকে শাস্তি না দিলে তাঁর মধ্যে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর একটি বিশেষ গুণ ফুটে উঠত-বিশ্লেষণ করো।            ৪

ক. আহযাবের যুদ্ধের অপর নাম খন্দকের যুদ্ধ।

খ. মহানবি (স.)-এর প্রতি তাঁর ভক্ত বা অনুসারীদের ভীতি দূর করার উদ্দেশ্যে মহানবি (স.) নিজের সম্বন্ধে আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।

মহানবি (স.) নিজেকে সাধারণ মানুষ ভাবতেন। মক্কা বিজয়ের পর সাফা পর্বতের পাশে তিনি যখন সত্যান্বেষী মানুষকে দীক্ষা দিচ্ছিলেন তখন একজন লোক তাঁর কাছে এসে ভয়ে কাঁপতে থাকে। তিনি হাসিমুখে তাকে অভয় দিয়ে নিজেকে সাধারণ স্তরের মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি বললেন “আমি রাজা নই, সম্রাট নই, মানুষের প্রভু নই।” এ উক্তির মধ্য দিয়ে মহানবির নিজের সম্বন্ধে তুচ্ছতাবোধ প্রকাশ পেয়েছে।

গ. হযরত দাউদ (আ) এর সাথে ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের হযরত মুহম্মদ (স.) এর গুণগত দিক থেকে বৈসাদৃশ্য রয়েছে। ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে হযরত মুহম্মদ (স.) এর গুণাবলির বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এখান থেকে জানা যায় যে, মহানবি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ছিলেন। তিনি কখনও কাউকে অভিসম্পাত করেননি বরং তাঁর শত্রুদের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানিয়েছেন যেন তারা জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়। কিন্তু উদ্দীপকে এর ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, হযরত দাউদ (আ.) একজন রাসুল। তিনি তাঁর ওপর অবতীর্ণ যাবুর কিতাব প্রতিদিন পাঠ করতেন। তাঁর কিতাব পাঠ খুবই সুমধুর ছিল। নদীর মাছগুলো তাঁর এই সুমধুর পাঠ শোনার জন্য নদীর কিনারায় জড়ো হতো। তাই দাউদ (আ) ওখানকার মানুষদেরকে শনিবারে মাছ ধরতে নিষেধ করেন। তাদেরকে সাবধান করে দেন কেউ যদি আদেশ অমান্য করে, তবে সে সৃষ্টিকর্তার পক্ষ হতে শাস্তি পাবে। কিছু লোক তাঁর আদেশ অমান্য করায় তারা বানরে পরিণত হয় এবং মৃত্যুবরণ করে। দাউদ (আ) তাদেরকে ক্ষমা করেননি। লোকগুলোর পাপ কাজের শাস্তিতে তিনি কোনো আপত্তি জানাননি। পক্ষান্তরে ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে বর্ণিত চরিত্র হযরত মুহম্মদ (স.) এ দিক থেকে ছিলেন হযরত দাউদ (আ)-এর চেয়ে ব্যতিক্রম। ইসলাম প্রচারের কাজে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছেন। কখনও তাঁকে শত্রুপক্ষের আঘাতও পেতে হয়েছে। তিনি শত্রুদের ওপর প্রতিশোধ পরায়ণ না হয়ে তাদেরকে ক্ষমা করে দেন। কিন্তু ইচ্ছে করলে তিনিও হযরত দাউদ (আ)-এর মতোই পাপীদেরকে শাস্তি প্রদানের পক্ষে থাকতে পারতেন। তা না করে তিনি শত্রুদেরকে তাদের পাপ পথ থেকে ফিরে এসে নিজেদেরকে শুধরিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দেন। তাই বলা যায়, প্রতিশোধ ুুুপরায়ণ মনোভাব ধারণ করে ক্ষমাশীল না হওয়ার কারণেই উদ্দীপকের দাউদ (আ) এর সাথে ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের হযরত মুহম্মদ (স.)-এর বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।