নাজমুন্নাহার নিপা
করোনার বেশ কয়েকটি ভ্যাকসিন ট্রায়ালের শেষ ধাপে রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই আবার সংক্রমণের হার ক্রমশ বাড়ছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে করোনার দ্বিতীয় ধাপ বলছে। তাদের ভাষ্যমতে, এটি আরো শক্তিশালী রূপ ধারণ করতে পারে।
তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার যেসব নিয়ম-কানুন জনসাধারণকে অবহিত করা হয়েছে, তাদের তা স্মরণে রাখতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরা, নিয়মিত হাত ধোয়াসহ জনসমাগম এড়িয়ে চলার বিষয়গুলো নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে পত্র-পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়াসহ ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারের পদক্ষেপ নিতে হবে। সাধারণত শীত মৌসুমে বিয়েসহ জনসমাগমমূলক অনুষ্ঠানাদির আয়োজন করা হয়ে থাকে। এসব অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারের তরফ থেকে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে।
আমরা অনেকেই ঠান্ডা থেকে রক্ষা পেতে ইলেকট্রিক রুম হিটার ব্যবহার করি। এর ফলে নাক এবং শ্বাসনালীর প্রতিরোধকারী পর্দা (মিউকসা) শুষ্ক হয়ে যায়। তখন করোনা ভাইরাস সহজেই দ্রুত পর্দা ভেদ করতে পারে। স্বাভাবিক সময়ে এই পর্দা দ্রুত নাক এবং শ্বাসনালীতে অনুপ্রবেশকারী যাবতীয় রোগ-জীবাণু, বালুকণা, ময়লা পরিষ্কার করে। কিন্তু তাপমাত্রা কমে গেলে পরিষ্কার করার ক্ষমতা হ্রাস পায়।
লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষকরা তাঁদের এক গবেষণায় দেখেছেন, সাম্প্রতিক মহামারির জন্য দায়ী করোনা ভাইরাস মানুষের মস্তিষ্কের কাজ করার ক্ষমতা ৮.৫ শতাংশ ধ্বংস করে দেয় এবং বিভিন্ন ধরনের মানসিক সমস্যার সৃষ্টি করে। এ জীবাণু মানুষের মস্তিষ্কে সক্রিয় থাকতে পারে অন্তত ১০ বছর। গবেষকরা ৮৪ হাজারের বেশি করোনা আক্রান্ত ও সুস্থ হওয়াদের ওপর সমীক্ষা চালিয়েছেন। দেখা গেছে, করোনা থেকে কয়েক সপ্তাহ বা মাস পর মুক্তি পেলেও এর প্রভাব রয়ে যাচ্ছে অধিকাংশের শরীরে। এছাড়া শরীর ব্যথা, ক্লান্তি, হূদরোগসহ আরো উপসর্গ থাকছে। মস্তিষ্কের এ পরিস্থিতিকে তাঁরা বলছেন ‘ব্রেন ফগ’। গবেষকরা আরো জানান, কোভিড-১৯ রোগ থেকে যাঁরা সেরে উঠছেন তাঁদের ইমিউনিটি (রোগ প্রতিরোধ) নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ শরীরের মধ্যে এ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা টেকে মাত্র কয়েক মাস। এর পরই ঐ ব্যক্তি আবার কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। তাই সচেতন থাকার কোনো বিকল্প নেই।
মানুষের মধ্যে মাস্ক না পরার একটা তীব্র অনীহা রয়েছে। অথচ করোনা প্রতিরোধে সবার জন্য মাস্ক ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিরাপদ দূরত্বের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো কিছু স্পর্শ করার পরে হাত স্যানিটাইজ করা এবং সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এইসব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে আমাদের স্বার্থেই—যাতে আমরা সুস্থ থাকতে পারি।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শীতের সময় করোনার সংক্রমণ ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে পূর্ণ প্রস্তুতি রাখতে হবে। মাস্ক ব্যবহার না করলে নিতে হবে আইনি ব্যবস্থা। সবাইকে নিজেদের জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। শীতে বিভিন্ন দূষণ থেকে দূরে থাকতে হবে—কেননা দূষণের কবলে পড়লে অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে, যার ফলে করোনার প্রবণতা আরো বেড়ে যায়। এ অবস্থায় টেস্ট বাড়ানো, রোগী শনাক্ত করে চিকিত্সার জন্য আইসোলেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। করোনা ভ্যাকসিন যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের হাতের নাগালে না আসছে ততদিন প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই।
ময়মনসিংহ
