আবাদ হচ্ছে ২ হাজার ৮০ হেক্টরে
গোলাম মোস্তফা আনছারী, স্টাফ রিপোর্টার রংপুর
রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় মিষ্টিকুমড়া চাষে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার স্বপ্নে বিভোর চরাঞ্চলের চাষিরা। লাভজনক ফসল হওয়ায় দিন দিন বেড়েই চলেছে কুমড়ার চাষ। রংপুর অঞ্চলের রংপুর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারীর চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা যায়, ধুধু বালুচরে এখন শুধুই সবুজের সমারোহ। কুমড়ার লতায় বিস্তীর্ণ এলাকা ছেয়ে গেছে। নিবিড় সবুজের ভেতর উঁকি দিচ্ছে ছোট-বড় নানা আকারের কুমড়া। রংপুরের কাউনিয়ার বালাপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর তালুক শাহবাজ গ্রামের প্রায় ২ শতাধিক পরিবার তিস্তার চরাঞ্চলের পতিত জমিতে দীর্ঘদিন ধরে কুমড়া চাষ করে আসছে।
কুমড়াচাষি মতিয়ার রহমান, মোক্তার আলী স্বাধীন, বাবলু মিয়া, সাইফুল ইসলাম, মোফাজ্জল হোসেন, মারুফ হোসেন, মজিবর রহমান, আব্দুস সামাদ, প্রফুল্ল বর্মণ, আশরাফুল ইসলাম, সুরেষ রায়, আমিনুল ইসলাম, মালতী রায়, পার্বতী বর্মণ, হাসিনা বেগমসহ অনেকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, দেশে কৃষি জমি কমে আসছে। রংপুরের চরাঞ্চলের জমি বছরের প্রায় সাত মাস পতিত থাকে। এ সময় এখানে অনায়াসে কুমড়া চাষ করা যায়। তারা আরো জানান, চরাঞ্চলে কুমড়া চাষ করে বছরে তারা দেড় থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করেন। কুমড়া বিক্রির আয় থেকে তাদের সংসার ও সন্তানদের পড়াশুনার খরচ চলে। মালতী রায় নামের এক চাষি জানান, চলতি বছর তিনি ও তার স্বামী মিলে ১৮০টি গর্ত খুঁড়ে কুমড়ার বীজ বপন করেন। প্রতিটি গাছে এখন পাঁচ-সাতটি করে কুমড়া ধরেছে। এবার প্রায় আড়াই লাখ টাকার কুমড়া বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। কুমড়াচাষি মোক্তার আলী জানান, তিনি এবার আড়াই একর জমিতে গর্ত খুঁড়ে কুমড়া চাষ করেছেন। এর মধ্যে অনেক গাছে কুমড়া ধরেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও কৃষকদের মুখে হাসি ফুটবে। রংপুর অঞ্চলের কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম জানান, কুমড়া লাভজনক ফসল হওয়ায় দিন দিন চরাঞ্চলের মানুষজন কুমড়া চাষে ঝুঁকে পড়ছে। চলতি মৌসুমে রংপুরের ৬১৭টি চরাঞ্চলে ২ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে এ মৌসুমে কুমড়ার চাষ হয়েছে। বিষমুক্ত কুমড়া চাষ করেই তারা আজ স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।
