ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৫
ইত্তেফাক রিপোর্ট
রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ছয় মাসেও কোনো সুরাহা হয়নি। হাইকোর্ট নিহতদের পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিলেও চেম্বার বিচারপতির আদেশে তা স্থগিত হয়ে আছে। পাশাপাশি পুলিশ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যে মামলা করেছিল সেটির তদন্তে নেই অগ্রগতি। এমনকি নিহত একজনের পরিবার যে হত্যা মামলা দায়ের করেছিল সেই মামলার তদন্তও শেষ হয়নি। অস্থায়ী করোনা ইউনিটে এত বড় অগ্নিকাণ্ডের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর থেকেও নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। তবে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক তদন্ত রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।
গত ২৭ মে রাত পৌনে ১০টার দিকে গুলশানের বেসরকারি ঐ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে স্থাপিত আইসোলেশন ইউনিটে আগুন লাগলে একটি কক্ষে পাঁচ জন রোগীর মৃত্যু হয়। এরমধ্যে তিন জনের কোভিড-১৯ পজিটিভ ছিল। এই ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক দেবাশীষ বর্ধনের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়। পাশাপাশি পুলিশের গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার আব্দুল আহাদের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি করা হয়। এই দুই কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এবং পুলিশের রিপোর্ট পুলিশ কমিশনারের কাছে ইতিমধ্যেই জমা দেওয়া হয়েছে। সেই রিপোর্ট ধরেও নেওয়া হয়নি কোনো ধরনের ব্যবস্থা।
ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের পৃথক প্রতিবেদনে ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার মধ্যে আছে, এসির শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগে। আর হাসপাতালের বর্ধিত ঐ অংশে কার্যকর কোনো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। তড়িঘড়ি করে বর্ধিত ঐ অংশ গড়ে তোলার সময় ফায়ার সার্ভিসের মতামত নেওয়া হয়নি। এছাড়াও হাসপাতালে ১১টি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মধ্যে আটটিই মেয়াদোত্তীর্ণ পেয়েছে তদন্ত দল। এমনকি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম হাসপাতালটি পরিদর্শনে গিয়ে সেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কথা বলেছিলেন। হাসপাতালটির অগ্নিনির্বাপণের দায়িত্বে একজন কর্মকর্তা আছেন, কিন্তু তিনি ঘটনার সময় বাসায় ছিলেন। প্রয়োজনীয় জনবল ছিল না। এমনকি ফায়ার হাইড্রেন্ট ছিল কিন্তু সেটির মুখ খুলে দেওয়ার মতো কেউ ছিল না আগুন লাগার পর। টিনশেডের বর্ধিত অংশটি ওপরে টিন দিয়ে তার নিচে সিলিং করা হয়েছে। আর বেড়া দেওয়া হয়েছে পারটেক্স ও গ্লাস দিয়ে।
পুলিশের তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়, আগুন নেভাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তত্পর ছিল না। হাসপাতাল থেকে একজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছেন, তিনি হলেন ক্লিনার আরাফাত। আগুন লাগার পর চিকিত্সক নার্সসহ অন্যান্য কেউ এগিয়ে না আসলেও আরাফাত তার মতো করে চেষ্টা করেছিলেন। শেষের দিকে মেয়াদোত্তীর্ণ অগ্নিনির্বাপক দিয়ে কেউ কেউ চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তাও আগুনে সব শেষ হয়ে যাওয়ার পর।
এই অগ্নিকাণ্ডের পর হাইকোর্ট থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা করে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু গত ২১ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার বিচারপতি সেই আদেশ স্থগিত করে দেন। এরপর উচ্চ আদালতে এ বিষয়ে কোনো শুনানি হয়নি। এই ঘটনায় নিহত পাঁচ রোগীর মধ্যে এ্যান্থনী পলের মেয়ের স্বামী রোনাল্ড নিকি গোমেজ বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় হাসপাতালের চেয়ারম্যান, এমডি, প্রধান নির্বাহী, পরিচালক, দায়িত্বরত ডাক্তার নার্স ও সেফটি সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযুক্ত করা হয়। এই মামলায়ও তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।
