সড়কে মৃত্যু কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না! গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে মানিকগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে বাসচাপায় অটোরিকশাযাত্রী একই পরিবারের ছয় জনসহ সাত জন এবং টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিকল বাসে ট্রাকের ধাক্কায় ছয় শ্রমজীবী যাত্রী নিহত হয়েছেন।
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি ও দৌলতপুর সংবাদদাতা জানান, উপজেলার চকমিরপুর ইউনিয়নের মূলকান্দি এলাকায় বিকেল সোয়া ৩টার দিকে ভিলেজ লাইন পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে ছয় জন নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে আরো এক জন মারা যান। দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসমত উল্লাহ। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় নিহত ছয় জন একই পরিবারের, এর মধ্যে একটি শিশু রয়েছে। আরেকজন অটোরিকশা চালক। নিহতরা হলেন- টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার চাষাভাদ্রা গ্রামের হরেকৃষ্ণ বাদ্যকার (৫৫), তার ছেলে গোবিন্দ বাদ্যকার (২৮), গোবিন্দর স্ত্রী ববিতা বাদ্যকার (২৫), মেয়ে রাধে বাদ্যকার (৪), চাচী খুশি বাদ্যকার (৫২), চাচাতো ভাই রাম প্রসাদ বাদ্যকার (৩০) ও চালক জামাল শেখ (৩০)।
গোবিন্দর চাচা বাদল চন্দ্র জানান, গোবিন্দর একমাত্র মেয়ে রাধের ডায়রিয়া হওয়ায় চিকিত্সার জন্য পরিবারের সবাই মিলে সিএনজি যোগে জেলা সদর হাসপাতালে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, সকাল ৭টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে উপজেলার কুরনী নামক স্থানে একটি মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় যাত্রীবাহী বাসের এক নারীসহ ছয় শ্রমজীবী যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০ জন। নিহত ও আহতরা সবাই কাজের সন্ধানে ঢাকা ও গাজীপুরে যাচ্ছিলেন।
নিহতরা হলেন: রংপুর জেলার হরিরামপুর উপজেলার শাহাপুর গ্রামের সোবহান মিয়ার ছেলে শওকত হোসেন (১২), নুলু খানের মেয়ে নূর নাহার (১৬), রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বল্লাগান্ধি গ্রামের পারভেজ মিয়ার ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৩২), জয়নাল মিয়ার ছেলে আশরাফুল ইসলাম (৩৫), ইসহাক আলীর ছেলে আব্দুল হান্নান মিয়া (৫০) এবং রতন মিয়ার ছেলে চুন্নু মিয়া (৩২)।
গোড়াই হাইওয়ে থানার ওসি মো. মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, রংপুর থেকে ঢাকাগামী সেবা ক্লাসিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মহাসড়কের কুরনী নামক স্থানে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় ঢাকাগামী অপর একটি মালবাহী ট্রাক বাসটিকে ধাক্কা দিলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ও বাসের ভিতরে থাকা চর যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত এবং আহত হন কমপক্ষে ১০ জন। সাত জনকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় দুই জন মারা যান। তিন জনের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। ঘাতক ট্রাকটি আটক হলেও বাসের চালক পলাতক রয়েছেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সায়েদুর রহমান বলেন, হাইওয়ে থানা পুলিশের সার্বিক সহযোগিতায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশগুলো তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মিঠাপুকুরে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
মিঠাপুকুর (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোস্তাকিম মিয়া (১৭) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে শঠিবাড়ি-বড়বালা সড়কের বালুয়া হামিদপুর গ্রামে পেট্রোল পাম্পের পূর্বদিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মোস্তাকিম বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের হামিদপুর গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে।
মাগুরায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩
মাগুরা প্রতিনিধি জানান, শুক্রবার জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছে। এরা হলেন শালিখা উপজেলার থৈপাড়া গ্রামের লিটন মজুমদারের স্ত্রী স্বর্নলতা মজুমদার (২৭), তার ভাইয়ের স্ত্রী স্বাথী মজুমদার ( ৩৩) ও নড়াইলের লোহাগড়ার আব্দুল আহাদ মোল্লা (৬০)।
বিকাল ৪টার দিকে সদর উপজেলার রামনগর ঠাকুরবাড়ি এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকদের ওপর ঢাকাগামী সবজি বোঝাই ট্রাক উল্টে ২ গৃহবধূ আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়। তারা একটি বৌভাতের অনুষ্ঠান শেষে বাড়িতে ফিরছিলেন। এছাড়া জেলার মহম্মদপুরের রাজাপুরে নছিমনের ধাক্কায় পল্লী চিকিত্সক আব্দুল আহাদ মোল্লার মৃত্যু হয়েছে।
