মিরসরাই ফেনী অঞ্চলে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরীর জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসার মোহরা পানি শোধনাগার থেকে দৈনিক ১৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহের প্রয়োজনে দেশের একমাত্র কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজননস্থল চট্টগ্রামের হালদা নদী থেকে পানি উত্তোলনের বিষয়ে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) প্রণীত পরিবেশগত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা রিপোর্ট নিয়ে নদী ও হালদা বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে গত ২৪ নভেম্বর ঢাকায় জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আয়োজিত এক সেমিনার ও ওয়েবিনারে হালদার অস্তিত্ব সংকট নিয়ে দেশের হালদা ও নদী বিশেষজ্ঞরা তাদের গভীর উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন বলে জানা গেছে। এতে সভাপতিত্ব করেছিলেন বাংলাদেশ নদী কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। তিনি বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে তুলে ধরবেন বলে ওয়েবিনারে জানান।
এই সেমিনার সম্পর্কে গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়কারী এবং প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া ইত্তেফাককে বলেন, সেমিনারে নদী বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাতসহ দেশের বিশিষ্ট পরিবেশ বিজ্ঞানীরা হালদা নদী এবং এই নদীর জীববৈচিত্র্যের জন্য ব্যাপক ক্ষতির কারণ উজানের রাবার ড্যামসমূহ এবং ১৮টি স্লুইস গেটের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য অনেকগুলো প্রতিকূল কারণ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও নতুন করে আবার চট্টগ্রাম ওয়াসার মোহরা পানি শোধনাগারের ফেজ-২ প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে প্রায় ৬৫/৭০ কিলোমিটার দূরের শিল্প নগরীতে পানি সরবরাহের জন্য হালদা থেকে দৈনিক ১৪ কোটি লিটার পানি উত্তোলনের প্রস্তাব অত্যন্ত ভয়াবহ বলে বিশেষজ্ঞরা অভিমত দিয়েছেন।
অধ্যাপক মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, আইডব্লিউএম প্রণীত হালদা থেকে পানি উত্তোলনের প্রস্তাবিত প্রকল্পের সমীক্ষা রিপোর্টটি বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার ভিত্তিতে করা হয়নি বলেও হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির একটি পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার প্রাক্কলিত খরচে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের ২০০ পৃষ্ঠার এনভায়রনমেন্ট ইমপ্যাক্ট এসেসমেন্ট (ইআইএ) চট্টগ্রামের পরিবেশ অধিদপ্তরেও সম্প্রতি জমা দেওয়া হয়। এটি পেয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য অধিদপ্তর কার্যালয়ে হালদা ও নদী বিশেষজ্ঞদের সভা ডাকেন। সভায় বিশেষজ্ঞরা লক্ষ্য করেন দেশের ছোট কিন্তু অত্যন্ত মূল্যবান নদী হালদা ভয়ানক ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে। হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির পর্যালোচনা অনুসারে আইডব্লিউএমের সমীক্ষা রিপোর্ট নানাভাবে ত্রুটিপূর্ণ। হালদা ল্যাবরেটরির পর্যালোচনা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের জন্য দৈনিক ১৪ কোটি লিটার পানি উত্তোলনসহ বর্তমান চাহিদা অনুসারে হালদা থেকে প্রতিদিন ৫৪ দশমিক ৫ কোটি লিটার পানি উত্তোলন করতে হবে। কিন্তু সমীক্ষা রিপোর্টে দেখানো হয়েছে হালদা থেকে সর্বসাকুল্যে ২ দশমিক ০৫ শতাংশ পানি উত্তোলন করা হবে।
