মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরাজয় স্বীকার না করলেও ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। কিন্তু যাওয়ার আগে তিনি নিজের তিন সন্তান, আইনজীবী, বন্ধুবান্ধবসহ আরো অনেককে ‘ক্ষমা’ ঘোষণা করতে পারেন বলে মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। যাতে কোনো অপরাধের কারণে তারা আইনি জটিলতার মুখে না পড়েন।
কিন্তু কোনো অভিযোগে বিচার শুরুর আগে প্রেসিডেন্ট কাউকে ক্ষমা করতে পারেন কি না তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলছে ব্যাপক আলোচনা। কারণ সাধারণত ক্ষমা তাদেরই করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে বিচার চলছে বা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এরই মধ্যে ট্রাম্প তার সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। যিনি ২০১৬ সালের নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ নিয়ে তদন্তে এফবিআইকে মিথ্যা বলে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। কিন্তু যে অপরাধ হয়নি বা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই তাদের আগেভাগে ক্ষমা করা যায় কি?
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ১৮৬৬ সালে স্পস্টভাবে জানিয়েছে যে, প্রেসিডেন্টের ক্ষমা করার ক্ষমতা আইনত সব অপরাধের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যাবে। এই ক্ষমতা অপরাধ সংগঠিত হওয়ার পর চর্চা করা যেতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিচার হয়েছে এমন মানুষদের ক্ষমা করা হয়। এই ক্ষমা নিয়ে সরকারের কোনো শাখা পর্যালোচনা করতে পারবে না। আর প্রেসিডেন্টের কারণ ব্যাখ্যা করার কোনো প্রয়োজনও নেই। তবে এই ক্ষমা করার ক্ষমতা ‘অ্যাবসোলুট’ নয়। ফেডারেল অপরাধের ক্ষেত্রে কেবল এই ক্ষমতার চর্চা সম্ভব।
খবরে বলা হয়েছে, অবশ্যই ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ লোকদের এমনকি পরিবারের সদস্যদের ক্ষমা করতে পারেন। ২০০১ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন তার ভাইকে ক্ষমা করেন। যিনি কোকেন রাখার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। কিন্তু দেখার বিষয় হলো—ট্রাম্পের সন্তানরা কোনো অপরাধে অভিযুক্ত নন। ট্রাম্প কেন তাদের ক্ষমা করতে চান সে বিষয়টিও স্পষ্ট নয়। যদিও ট্রাম্প এবং তার প্রতিষ্ঠানের কর ফাঁকির বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ নিয়ে সন্তানদের যেন বিচারের মুখোমুখি হতে না হয় হয়তো সেটিই নিশ্চিত করতে চাইছেন ট্রাম্প।
এদিকে কিছু গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ক্ষমতা ছাড়ার আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেকেও ক্ষমা করতে পারেন। ২০১৮ সালে তিনি বলেছিলেন নিজেকে ক্ষমা করারও ‘পরিপূর্ণ অধিকার’ তার রয়েছে। এ বিষয়ে মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ব্রিয়ান কাল্ট বলেন, যদি কেউ প্রশ্ন করেন প্রেসিডেন্ট কি নিজেকে ক্ষমা করতে পারেন, আমি বলব সেটা সব সময় সম্ভব। ট্রাম্প এটি করতে পারেন। কারণ সংবিধানে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর নেই। যদিও অনেক আইনজীবী বলছেন, নিজেকে ক্ষমা করা হবে অসাংবিধানিক। কারণ এটি মৌলিক নীতির লঙ্ঘন। কেউ নিজে তার অভিযোগের বিচারক হতে পারেন না। বিভিন্ন খবরে বলা হচ্ছে, ট্রাম্প নিজেকে আগাম ক্ষমা করতে পারেন যাতে দায়িত্ব ছাড়ার পর তাকে সম্ভাব্য বিচারের মুখে পড়তে না হয়।
