‘রাজনৈতিক মোল্লা’দের বিবৃতি জাতীয় ইতিহাস ঐতিহ্য সংবিধানবিরোধী

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে তথাকথিত বিতর্কের এ পর্যায়ে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি-জামায়াত-জঙ্গির ভাড়াটে খেলোয়াড় ‘রাজনৈতিক মোল্লারা’ ‘মানুষ বা অন্য যে কোনো প্রাণীর ভাস্কর্য অথবা মূর্তি নির্মাণ, স্থাপন ও সংরক্ষণ পূজার উদ্দেশ্যে না হলেও সন্দেহাতীতভাবে নাজায়েজ, স্পষ্ট হারাম এবং কঠোরতম আজাবযোগ্য গুনাহ’ বলার মাধ্যমে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর দেশে দেশে মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সব জাতির ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি-জীবনবোধ-আইন-নীতি-সংবিধানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। গতকাল শুক্রবার এক যুক্ত বিবৃতিতে তারা এ কথা বলেন।

জাসদ নেতৃদ্বয় বলেন, এসব ‘রাজনৈতিক মোল্লারা’ উপরন্তু অপরাপর ধর্মাবলম্বীদের পূজার উদ্দেশ্যে প্রতিমা স্থাপনকেও ‘স্পষ্ট শিরক’ বলার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়ার মতো এবং ধর্মগুলোর মধ্যে তুলনা করার মতো গর্হিত অপরাধ করেছে। এদের এ নিন্দনীয় ও গর্হিত অপরাধ বাংলাদেশের সংবিধানে ঘোষিত মৌলনীতিমালার পরিপন্থি। ‘যারা বলছেন মূর্তি ও ভাস্কর্য এক নয়, তারা ভুল বলছেন’ বলে এসব রাজনৈতিক মোল্লারা যে বক্তব্য দিয়েছে তা অশিক্ষাপ্রসূত। প্রতিমা/মূর্তির সঙ্গে রয়েছে পারলৌকিকতার সম্পর্ক আর ভাস্কর্যের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে ইহজাগতিকতার। তার মানে এই নয় যে, প্রতিমা নাজায়েজ আর ভাস্কর্য জায়েজ। আমরা মনে করি, এখানে কোনো ধরনের তুলনা গ্রহণযোগ্য নয়।

বিবৃতিতে তারা বলেন, আলেম নামধারী বিএনপি-জামায়াত-জঙ্গির এসব ভাড়াটে খেলোয়াড় ‘রাজনৈতিক  মোল্লারা’ এমনকি আল্লাহ্, নবি ও কোরআন শরিফের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছে। পবিত্র কোরআনের সুরা কাফিরুনের রুকু ১ (এক)-এর আয়াত ৬ (ছয়)-এ পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে ‘লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন’ বা ‘তোমাদের ধর্ম তোমাদের, আমার ধর্ম আমার’।

জাসদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, এসব রাজনৈতিক মোল্লাদের বিবৃতির নেতৃত্ব দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী; আর স্বাক্ষরদাতাদের প্রায় সবাই হেফাজত ও শাসনতন্ত্র আন্দোলনের ‘রাজনৈতিক মোল্লা’। এরা প্রকৃত আলেম-ওলামা নয়; বরং এরা রাজনৈতিক দলের নেতা, এদের মার্কা আছে, এরা নির্বাচন করে এবং এরা বিএনপি-জামায়াত-জঙ্গির ভাড়াটে খেলোয়াড়। এদের বিবৃতির ভাষ্য বেআইনি ও উসকানিমূলক এবং সংবিধান ও রাষ্ট্রবিরোধী, সুতরাং শাস্তিযোগ্য। জাসদের শীর্ষ নেতৃত্ব অবিলম্বে বিএনপি-জামায়াত জঙ্গির ভাড়াটে খেলোয়াড় এসব ‘রাজনৈতিক মোল্লাদের’ আইনের আওতায় এনে গ্রেফতার, বিচার ও শাস্তির দাবি জানান।