কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা ফসল উত্পাদন ব্যাহত

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৩১

অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের অভিযোগ

ফারুক আহমেদ, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

ত্রিশালের বৈলর ইউনিয়নের পাড় ধানীখোলা গ্রামের কৃষিজমিতে পানি জমে থাকায় ধান, পাট ও সবজিসহ বিভিন্ন ফসল উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও কচুরিপানা জমে আবাদের অযোগ্য হয়ে গেছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, অপরিকল্পিতভাবে ফিসারির পুকুর খননের ফলে জলাবদ্ধতায় ফসল ফলানো থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। প্রায় ১৫ বছর ধরে এ সমস্যার মধ্যে আছেন তারা। সুবিধা বঞ্চিত কৃষকরা স্থানীয় চেয়ারম্যান ও প্রশাসনের কাছে জলাবদ্ধতা নিরসনের সমাধান চেয়েছেন। বিলপাড়ের বাসিন্দা রুহুল আমিন, মৃত আবদুল হাইয়ের স্ত্রী জরিনা খাতুন ও মৃত আবদুস সালামের স্ত্রী আছিরন নেছাসহ অন্যরা জানান, বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার কারনে রান্নাবান্না ও চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদেরকে।

আশি বছর বয়সি মন্তাজ আলী বলেন, আমার একমাত্র সম্বল তিন একর জমিই ওই বিলের পানির নিচে। ফিসারি ওয়ালারা পানি যাইবার কোন রাস্তা রাহে নাই। এছাড়াও মোবারক হোসেন মন্ডল, খোরশেদ আলী, শফিকুল ইসলাম, হোসাইন আহমদ, কালু মড়ল, আবদুল মোতালেব, মাখনসহ কৃষকরা জানান, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ করে বিলের দুইপাশেই ফিসারির পুকুর খননের ফলে জলাবদ্ধতা থাকে সারা বছর। কচুরিপনায় নিমজ্জিত থাকা ওইসব জমিতে ১৫ বছর আগে তারা পুরোদমে বোরো ও আমন ধানের আবাদ ছাড়াও পাট ও সবজির চাষ করত। এখন ওই এলাকার প্রায় একশ একর ফসলি জমি পানির নিচে। জানা গেছে, উপজেলা সদর থেকে ১২ মাইল দূরবর্তী বৈলর ইউনিয়নের পাড় ধানীখোলা গ্রামে প্রায় একশ একর জায়গা জুড়ে ফালদিগা ও শুক্কুর বিল। আগে বর্ষাকালে ওই দুই বিলে পানি জমলেও পানি নিষ্কাশনে পথ ছিল বলে কখনো জলাবদ্ধতা দেখা দিত না। পার্শ্ববর্তী গ্রামের কদমতলী ও থলিভাঙা বিল হয়ে ধরার খালে গিয়ে নামত পানি। কতিপয় ব্যক্তি বিলের পানি নিষ্কাশনের গতিপথ রোধ করে অপরিকল্পিতভাবে ফিসারির পুকুর খনন করায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এদিকে কৃষকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান ও সহকারি কমিশনা (ভুমি) তরিকুল ইসলাম। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শোয়েব আহমেদ জানান, ওই সমস্যা নিরসনে এখানকার সাবেক কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার মিজানুর রহমানসহ অন্যরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বেশ কয়েকবার প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এব্যাপারে ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আগামী বোরোর আবাদ নিশ্চিত করণে পানি নিষ্কাশনের জন্য সাময়িকভাবে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে ক্ষতিপূরন দিয়ে পাড়ধানীখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি স্থান নির্ধারন করেছিলাম। ঐ সব জমিতে ফসল আবাদের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।