খুলনা অফিস
শীতের মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই খুলনা মহানগরীতে মশার দাপট বেড়েছে। দিন কি রাত, মশার হাত থেকে নিস্তার পাচ্ছে না মানুষ। রাতে মশারি টানিয়ে ঘুমাতে গেলেও যেন রক্ষা নেই। মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন খুলনা নগরবাসী। মশা নিয়ন্ত্রণে খুলনা সিটি করপোরেশনের সব প্রচেষ্টাই যেন ব্যর্থ হয়েছে। অবশ্য কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা বলছেন, গৃহস্থালির ময়লা-আবর্জনা ড্রেনে ফেলার কারণে সেখানে পানি জমে মশার উত্পত্তি হচ্ছে। ব্যবসায়ী তৌহিদুল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সারা দিন ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। রাতে বাসায় গিয়ে মশার উত্পাতে শান্তিতে একটু বসাও যায় না। মশা তাড়ানোর জন্য কয়েল ব্যবহার করেও কোনো কাজ হয় না। মাঝেমধ্যে সিটি করপোরেশন থেকে ফগার মেশিন নিয়ে ধোয়া দিয়ে যায়। কিন্তু তাতে মশার হাত থেকে নিস্তার পাওয়া যায় না। আবার দুই দিন পরে মশা তাড়ানোর জন্য স্প্রে নিয়ে আসেন স্প্রেম্যান। সেটি দিয়েও কাজ হয় না। গৃহিণী সুফিয়া খানম জানান, গত কয়েক দিন মশার উত্পাত খুব বেড়েছে। মশার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ঘরে কয়েল জ্বালিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। ছেলে-মেয়েরা মশার যন্ত্রণায় ঠিকমতো লেখাপড়াও করতে পারছে না।
সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ জানান, মশা প্রজননের মৌসুম এখন। মশা তাড়ানোর উদ্যোগ সিটি করপোরেশন থেকে নেওয়া হয়েছে। মশক নিধনের জন্য তেল আমদানির জন্য টেন্ডার হয়ে গেছে। এখন তা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ৩১টি ওয়ার্ডে কেন্দ্রীয়ভাবে নতুন করে ২০ জন স্প্রেম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৭০টি স্প্রে এবং ১৩টি নতুন ফগার মেশিন সংযোজন করা হয়েছে। প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে সকালে কালো তেল এবং মশার লার্ভা শেষ করার জন্য আমরা ওষুধ ব্যবহার করছি।
