বাউফলে আধাপাকা ধান কেটে ঘরে তুলছেন কৃষক

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৫০

লেদা পোকার আক্রমণ

বাউফল (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

বাউফলে লেদা পোকার আক্রমণে আধাপাকা ধান কেটে ঘরে তুলছেন কৃষক। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষক। উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নের মঠবাড়িয়া গ্রামের কৃষক মজিবর ফকির জানান, তিনি এ বছর সাড়ে তিন কানি জমিতে ইরি-৫২ জাতের ধান চাষ করেছেন। কিন্তু শীষকাটা লেদা পোকার আক্রমণে আধাপাকা ধান কেটে ঘরে তুলেছেন। কেবল মজিবরই নয়, আধাপাকা ধান কেটে ঘরে তুলেছেন একই গ্রামের সেলিম ফকির, জাহাঙ্গীর খান, নিজাম খান, জসিম খানসহ অনেক কৃষক। পোকার আক্রমণ ঠেকাতে কেউ কেউ আবার খেতের আধাপাকা ধানে ওষুধ ছিটাচ্ছেন। নাজিরপুর ইউনিয়নের সুলতানাবাদ গ্রামের ইউনুচ মৃধা, ধানদী গ্রামের আহেদ রাঢ়ি, আলতু রাঢ়ি, বড়ডালিমা গ্রামের জাহাঙ্গীর মৃধাসহ অনেক কৃষক জানান, তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে কেবল মঠবাড়িয়া কিংবা ঘুচরকাঠিই নয়, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ও বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলেও শীষকাটা লেদা পোকা আক্রমণ করেছে। এদিকে পোকার আক্রমণে এক একর জমির ধানের শীষই বের হয়নি জানান কৃষক মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, বাজারের ওষুধে কোনো কাজ করেনি। দিনে লেদা পোকা ধানের গোছার গোড়ায় লুকিয়ে থাকে আর রাতে শীষ কাটে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যান্ট ফাইটোলোজির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. শাহ মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, অতিবৃষ্টির মতো আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব, রোদ, তাপমাত্রা, শীত এসব কারণে বংশবৃদ্ধি ঘটে পোকার আক্রমণ হতে পারে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পোকা দমন ও চাষে কৃষক-কৃষানির সচেতনতা সৃষ্টি খুবই জরুরি হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমাদের লোকজন লিফলেট বিতরণসহ মাঠে কৃষকদের সচেতন করে নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। সার্বক্ষণিক খেতের অবস্থা জানানোর জন্য কৃষকদেরও অনুরোধ করা হয়েছে।