রূপগঞ্জে আমন ধানের ফলনে কৃষক স্বস্তিতে

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৪৯

এম এ মোমেন, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা

এবার আমন ধানের বাম্পার ফলনে হাসি ফুটেছে রূপগঞ্জের কৃষকদের মুখে। মাঠে মাঠে সোনালি ধান। মাঠে ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষি শ্রমিক। বাড়িতে বাড়িতে ধান মাড়াইয়ের মহাআয়োজন। গোলায় ধান উঠানো আর কৃষি শ্রমিকের আঞ্জাম জোগাতে কিষান-কিষানির দম ফেলবার ফুরসত নেই। পাকা ধানের মন মাতানো সুরভীতে ম-ম পাড়া-মহল্লা। রূপগঞ্জ উপজেলার হাটাবো, নোয়াগাঁও, দিঘুলিয়া, পুটিনা, ওলব, তিনওলব, কলিঙ্গা, খৈশাইর, রোহিলা, মোচারতাল্লুক, পাইস্কা, বাসুন্দা, আধলা, কান্দাইলসহ আশপাশের এলাকায় এখন এমন চিত্রই দেখা মেলে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে জানা যায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর আমন ধানের ফলন হয়েছে বাম্পার। তবে শ্রমিক সংকটে পাকা ধান কাটতে হিমশিম খাচ্ছে কৃষকরা। তাদের ভাষ্য, সময়মতো শ্রমিক না পেলে ধান চাষের খরচের তুলনায় ব্যয় হবে বেশি। হাটাবো গ্রামের চাষি মকবুল হোসেন বলেন, ‘আগে আমন ধানের ফলন কম হতো। উপজেলা অফিসের তত্ত্বাবধানে এখন ফলন হয় ভালো। আমি আমন ধান চাষ করে লাভবান। আমন ধান তুলে একই জমিতে রবিশস্য চাষাবাদ করা যায় বলে দিন দিন কৃষকরা আমন ধান চাষে ঝুঁকছে।’

আতলাশপুর গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদ বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে যথাসময়ে সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ করায় ও পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এবার আমন ধানের ভালো ফলন হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলায় ৯ হাজার ৪১২ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। চলতি বছরে আমন ধানের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ১৪০০ টন। এক বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করতে ব্যয় হয় ৬ হাজার ৪০০ টাকা। ধানের ফলন হয় ৮ থেকে ১২ মণ। প্রতি মণ ধানের দাম ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। এক বিঘা জমির খড়ের দাম ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা।

উপজেলা কৃষি অফিসার ফাতেহা নূর বলেন, আমন ধান চাষে কৃষকদের সময়মতো সার, বীজ, কীটনাশক দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি অফিসার নিজ নিজ ব্লকে সরেজমিনে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ায় ধানের ফলন ভালো হচ্ছে। তাতে আমন ধান চাষাবাদে কৃষকরা ঝুঁকছে।