প্রস্তাবিত অভিন্ন পারিবারিক আইন এখন সময়ের দাবি

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:০৫

সম্পদ-সম্পত্তিতে সমঅধিকারের দাবিতে মতবিনিময় সভায় বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

অসম আইন পরিবর্তন করে, অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়নে দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেছেন, প্রস্তাবিত অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রতিষ্ঠা বর্তমান সময়ের দাবি। যতদিন পর্যন্ত নারীরা তাদের সম্পদ ভোগ করতে না পারবে, ততদিন পর্যন্ত নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না। এই আইন প্রণয়ন ও প্রতিষ্ঠার জন্য সংবিধানের ২৭, ২৮ ও ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদ আমাদের মূল শক্তি। গতকাল প্রস্তাবিত অভিন্ন পারিবারিক আইন (ইউএফসি)-র আলোকে ‘সম্পদ-সম্পত্তিতে নারী-পুরুষের সমঅধিকারের দাবিতে সারা দেশের আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ সব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ১৬ দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই অনলাইন সভার আয়োজন করে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, অভিন্ন পারিবারিক আইনের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই। অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়নে বাধা এলে সেই বাধা অতিক্রমের জন্য জনমত গঠন প্রয়োজন। তবে ইতিমধ্যে এ সম্পর্কে জনমত তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। মহিলা পরিষদের আইন সংস্কারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জেয়াদ-আল-মালুম বলেন, সন্তান হিসেবে পিতা-মাতার সম্পদ-সম্পত্তিতে সব সন্তান সমান অধিকার পাবে। সংবিধান প্রদত্ত নারী-পুরুষের সমান অধিকারের ভিত্তিতে এই আইন প্রণয়নে কোনো বাধাই থাকতে পারে না বলে তিনি মত দেন।

বিভিন্ন ধর্মীয় আইনের বিধিবিধান উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহনাজ হুদা বলেন, ধর্মীয় চেতনা থেকেও নারীকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। পাশাপাশি সম্প্রতি পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইনে পুত্র ও কন্যাকে সমান দায়িত্ব দেওয়া হলেও সম্পত্তিতে কন্যাকে সমান অধিকার দেওয়া হয়নি। তিনি ১৮৮২ সালের বিশেষ বিবাহ নিবন্ধন আইনে পরিবর্তন করে সব ধর্মের নারী-পুরুষের বিবাহ রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেন।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ কে রাশেদুল হক বলেন, পারিবারিক আইন ধর্মীয় আইন দ্বারা নির্ধারিত। কিন্তু এই সব আইনে সমঅধিকারের বিষয় সঠিকভাবে নির্ধারিত হয়নি। যদিও আমাদের সংবিধানে সবার সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। কাজেই ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-লিঙ্গনির্বিশেষে একটি অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়ন ও সম্পদ-সম্পত্তিতে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দেশে একটি আইন দরকার।

সভা প্রধানের বক্তব্যে পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সম্পত্তিতে নারীর সমান অধিকার নেই, এমনকি নিজের উপার্জিত সম্পদও নারী নিজে ভোগ করতে পারে না। আর এসব সমস্যার মূল কারণ নারীর শ্রমের মূল্যায়ন করা হয় না। তারা সব জায়গায় উপেক্ষিত। কোথাও নারীকে অংশীদার করার চেষ্টা ও চিন্তা থাকে না।

সভায় সঞ্চালনা করেন পরিষদের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট দীপ্তি সিকদার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের সহসাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম। সভায় প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড লবি পরিচালক অ্যাডভোকেট মাকছুদা আখতার। পরিষদের ৪০টি জেলা শাখার প্যানেল আইনজীবীগণ প্রস্তাবিত অভিন্ন পারিবারিক আইন (ইউএফসি)-র আলোকে সম্পদ-সম্পত্তিতে নারী-পুরুষের সমঅধিকারের সম্পর্কে তাদের সুপারিশ উত্থাপন করেন।