বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নিজে দেখছেন --------- ওবায়দুল কাদের

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৪৬

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই দেখছেন। আমরা সরকারে আছি, আমাদের সব ব্যাপারে হুট করে মাথা গরম করলে চলবে না। প্রধানমন্ত্রী করোনা মোকাবিলা করেছেন এবং সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিকূল অনেক পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এখানে এসেছেন। কাজেই তিনি জানেন কোন পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে। গতকাল শনিবার সকালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীর দোয়েল চত্বরে অবস্থিত জাতীয় তিন নেতার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সারা জীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চেয়েছেন। আজকে গণতন্ত্র    শৃঙ্খলমুক্ত হলেও একটি অশুভ শক্তির অপচেষ্টার কারণে এখনো প্রাতিষ্ঠানিক রূপলাভ করেনি। বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যার পর ২১ বছর গণতন্ত্র শৃঙ্খল ছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যার ছয় বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসেন। ফিরে এসেই তার প্রথম কাজ ছিল গণতন্ত্রকে শৃঙ্খলমুক্ত করা। শৃঙ্খল মুক্তির জন্য, গণতন্ত্রের জন্য তিনি লড়াই করেছেন, সংগ্রাম করেছেন। জেল-জুলুম সয়েছেন এবং সেই গণতন্ত্র আজ শৃঙ্খলমুক্ত হয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ এখনো পায়নি। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রয়াণ দিবসে আমাদের প্রতিজ্ঞা হবে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চা প্রয়োজন, যেটি আওয়ামী লীগ ছাড়া কেউ করে না। বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, যাদের নিজেদের ঘরে গণতন্ত্র নেই, তারা দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে, এটা আশা করা যায় না।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন নিয়ে ইসলামপন্থি দলগুলোর বিরোধিতা ও হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা সরাসরি কারো সঙ্গে কোনো সংঘাতে যাব না। আমরা শুধু যুক্তিতর্ক দিয়ে বলব, মূর্তি আর ভাস্কর্য এক নয়। আজ যারা ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে কথা বলেন তারা কি জানে না পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভাস্কর্য আছে? সৌদি আরবসহ মুসলিম দেশগুলোতে ভাস্কর্য আছে।

এর আগে ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তিন নেতার মাজারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। এ সময়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, রিয়াজুল কবির কাওছার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা নিবেদনের পরে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, আওয়ামী যুবলীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।