চিনিকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল না হলে বৃহত্তর আন্দোলন

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৫৪

রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি চিনিকলে আখ মাড়াই বন্ধে সিদ্ধান্ত বাতিল করা না হলে ১৫ ডিসেম্বর থেকে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। বিগত বছরগুলোতে আখের দাম দ্বিগুণ করা হলেও চিনির দাম বাড়ানো হয়নি। একটি কুচক্রি মহল বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর মধ্যেই চিনিকল বন্ধের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিনিকলের লোকসান ও উত্পাদন খরচের মনগড়া তথ্য তুলে ধরছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চিনিকল আখচাষি ফেডারেশন ও বাংলাদেশ চিনিশিল্প করপোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশন।             গতকাল শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় স্বাধীনতা হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠন দুইটির শীর্ষ নেতারা। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলে আখ মাড়াই বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে তারা আগামীকাল ৭ ডিসেম্বর থেকে প্রতিদিন দেশের সব চিনিকলের মিল গেট এলাকায় দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ডাক দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ চিনিকল আখচাষি ফেডারেশনের সভাপতি মজাহারুল হক প্রধান এমপি, চিনিশিল্প করপোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মাসুদুর রহমান, বাংলাদেশ চিনিকল আখচাষি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী বাদশা, চিনিশিল্প করপোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক এবং প্রথম সহসভাপতি খোরশেদ আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চিনিশিল্প করপোরেশন ভুল তথ্য উপাত্ত দিয়ে প্রতি কেজি চিনির উত্পাদন খরচ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দেখিয়ে সরকার প্রধানকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। প্রকৃত পক্ষে চিনির উত্পাদন খরচ ৭০ থেকে ৮০ টাকা। কিন্তু চিনি শিল্পের প্রধান কাঁচামাল উত্পাদনকারী আখচাষিরা চুক্তিবদ্ধ চাষি হিসেবে ঋণ গ্রহণ করে ঋণের সুদসহ এযাবত্ পর্যন্ত ৯৯.৯৯ শতাংশ (প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা) পরিশোধ করলেও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তা পরিশোধ না করে নানা কাজে ব্যবহার করেছেন। ফলে দিন দিন ব্যাংক ঋণ বেড়েছে। এর দায় কোনোভাবেই আখচাষি কিংবা শ্রমিক-কর্মচারীদের ওপর বর্তায় না। এছাড়া বিদেশ থেকে বেশি দামে চিনি কিনে এনে তা কম দামে বিক্রি করার কারণে ২ হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।

চিনিকল আখচাষি ফেডারেশনের সভাপতি মজাহারুল হক প্রধান বলেন, ছয়টি চিনিকলে আখ মাড়াই বন্ধ করলে কৃষকরা আখ চাষ করবে না। আর আখ না থাকলে এমনিতেই মিলগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। বেকার হয়ে পড়বে হাজার হাজার শ্রমিক।