অনলাইনে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:০৭

মুকিতুল হক ও কাজী গোলাম হাবীব রিফাত

করোনাকালে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা ঘরবন্দি। অনলাইনে ক্লাস, পড়াশোনা ও পরীক্ষা-অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে দিতে শিক্ষার্থীরা জেরবার। দিনে বেশ কয়েক ঘণ্টা মোবাইল ও ল্যাপটপে ক্লাস নিতে নিতে ক্লান্ত শিক্ষকেরাও। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এই ছকে বাঁধা রুটিন থেকে একটু স্বস্তি দিতে ভিন্ন এক আয়োজন করেছে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগ— অনলাইনে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। এক-দুই ঘণ্টা নয়, রীতিমতো দিনব্যাপী চলে এই অনুষ্ঠান। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কয়েকটি সেশনে চলে প্রতিযোগিতা।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান বলেন, ‘আমরা অনেক আনন্দিত। আসলে বাসায় থাকতে থাকতে একঘেয়েমিতে ভুগছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় খোলা পর্যন্ত মাঝেমধ্যে এমন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে আমাদের জন্য তা আনন্দদায়ক হবে।’ ইংরেজি বিভাগের সিনিয়র লেকচারার কাজী তাহমিনা বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমকেও অনেক গুরুত্ব দিয়ে থাকি। সারা বছর ধরেই আমরা নানা ধরনের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, লিটারেরি আড্ডা, দেওয়াল পত্রিকাসহ নানা কার্যক্রম করে থাকি। কিন্তু করোনার কারণে এসব একটু থমকে ছিল। সেখান থেকে একটু রেহাই পেতে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ আয়োজন।’

মোট তিনটি বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানটি হয়েছিল— আবৃত্তি, গল্প বলা ও অভিনয়। সর্বশেষ সেশনে ছিল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা এবং শিক্ষকদের পারফরম্যান্স। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক তাহমিনা আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবুল বাশার খান, ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান আকন্দ প্রমুখ। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন সহকারী অধ্যাপক নাজলা ফাতেমী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হোসাইন বলেন, ‘শুধু ইংরেজি বিভাগ নয়, প্রতিটি বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ যেন এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, সেই ব্যবস্থা আমরা করব। রেজিস্ট্রার আবুল বাশার খান বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আমরা অনেক গুরুত্ব দিয়ে থাকি। বিজয়ীদের নাম ঘোষণার মধ্য                দিয়ে শেষ হয় ব্যতিক্রমী এই অনলাইন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। বিজয়ীদের পুরস্কার ডাকযোগে তাদের বাসায় পৌঁছে দেওয়া হবে। শুধু বিজয়ীদের নয়, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সবার জন্য ছিল সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক তাহমিনা আহমেদ।

লেখক:শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি