মামলা ও গণমাধ্যমে প্রচারের ভয় দেখিয়ে ওরা ছিনিয়ে নেয় সব

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:২১

ডিবি পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণা, গ্রেফতার ১০

বিশেষ প্রতিনিধি

গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে মামলা ও গণমাধ্যমে প্রচারের ভয় দেখিয়ে ভিকটিমের কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নেওয়া একটি চক্রের হোতাসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ বিভাগের একটি টিম বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিমের সহকারী কমিশনার ফজলুর রহমান। গ্রেফতারকৃতরা হলো— মহসিন শেখ, আনিছুর রহমান, সেন্টু মুন্সি, জুয়েল মিয়া, শাহিন শেখ, মহব্বত শেখ, আবুল কালাম, সুলতান মোল্লা, হেমায়েত শেখ ও কাইয়ুম শেখ। তাদের কাছ থেকে একটি প্রাইভেট কার, ডিবির জ্যাকেট, ওয়্যারলেস সেট, এক জোড়া হ্যান্ডকাপ ও ‘পুলিশ’ লেখা স্টিকার উদ্ধার করা হয়।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারকৃতরা ঢাকা শহরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় কখনো রিকশাচালক, কখনো ফেরিওয়ালা সেজে সাধারণ মানুষের কাছে সাহায্য চায়। তারা বলে, তাদের কাছে বেশ কিছু বিদেশি রিয়েল (মুদ্রা) আছে। তারা অশিক্ষিত মানুষ কীভাবে এটা ভাঙাতে হয় জানেন না। কিছু টাকার বিনিময়ে যদি ভাঙিয়ে দেন তাহলে খুব উপকার হবে বলে প্রস্তাব দেয়।

পরবর্তী সময়ে ফোনে তারা যোগাযোগ করে জানান, তার কাছে আরো অনেক রিয়াল আছে। সেগুলো তারা অর্ধেক দামে বিক্রি করবে। এমন প্রলোভনে লোকটি রাজি হলে টাকা নিয়ে তাদের পছন্দমতো জায়গায় নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ে আসতে বলে।

অপরদিকে এই চক্র একটি দলকে ডিবি পুলিশ সাজিয়ে ঐ তারিখ ও সময়ে নির্ধারিত স্থানে পিস্তল, ওয়্যারলেস সেট, হ্যান্ডকাপসহ মাইক্রোবাস বা একাধিক প্রাইভেট কারে অপেক্ষা করতে বলে। রিকশাচালক/ফেরিওয়ালা সাজা প্রতারক কাপড়ে মুড়িয়ে রিয়ালের নামে কাগজ বা অন্য কোনো জিনিস নিয়ে এসে রিয়াল ক্রেতাকে (ভুক্তভোগী) দেয়। তারপর টাকা হাতে নিয়ে বলে, পুলিশ আসছে তাড়াতাড়ি চলে যান। এ কথা বলে রিয়াল বিক্রেতা (প্রতারক চক্র) টাকা নিয়ে সটকে পড়ে। রিয়াল ক্রেতা (ভুক্তভোগী) সামনে হাঁটা শুরু করতেই ভুয়া ডিবি দলের সদস্যরা ভুক্তভোগী আটক করে তাদের গাড়িতে উঠিয়ে নেয়। এরপর তার কাছে অবৈধ রিয়াল আছে, তার বিরুদ্ধে মামলা/গণমাধ্যমে প্রচারের ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন বা অন্যান্য মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নেয়। ভুক্তভোগীর কাছে এটিএম কার্ড থাকলে বুথ থেকে টাকা তুলে নেয় ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা ট্রান্সফার করে নেয়। পরে তাকে সুবিধাজনক স্থানে নামিয়ে দিয়ে অপরাধীরা চলে যায়।

সহকারী পুলিশ কমিশনার ফজলুর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ঢাকা শহর ছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা আছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, ঢাকা মহানগর এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় এই ধরনের অনেকগুলো দল আছে। অপরাধী চক্রের পলাতক ও অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান আছে।