জামিনে বেরিয়ে ধর্ষণের শিকার নারীকে হুমকি দিচ্ছে ধর্ষকরা

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:২৪

গাজীপুর থেকে পালিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন ঐ নারী, ইত্তেফাকে এসে বললেন নির্যাতনের কাহিনি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

গাজীপুরের কাশিমপুর থানার সারদাগঞ্জে ধর্ষণের শিকার এক নারী ধর্ষকদের হুমকিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। মামলার পর আসামি গ্রেফতারও হয়েছিল। ২৬ দিন পর জামিনে ছাড়া পায়। এর পর থেকে ধর্ষণের শিকার ঐ নারীকে এলাকাছাড়া করতে উঠেপড়ে লাগে ঐ ধর্ষক ও তার সহযোগীরা। পালিয়ে থাকা ঐ নারী গতকাল রবিবার রাজধানীর কাওরান বাজারে ইত্তেফাক কার্যালয়ে এসে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতনের বর্ণনা দেন। মা আর নবম শ্রেণি পড়ুয়া ছোট বোন এলাকায় থাকলেও প্রভাবশালী ধর্ষকদের হুমকিতে তারাও চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। দ্রুত ধর্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে এক সন্তানের জননী ২৩ বছরের ঐ নারী জানান, ধর্ষণের সময় ধর্ষক ও তার সহযোগী শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেছে।

ধর্ষণের ঘটনা বলতে গিয়ে এই নারী জানান, তার তিন বছরের একটি ছেলে রয়েছে। বছর দুয়েক আগে তার স্বামী মালয়েশিয়া যায়। কিন্তু অনেক আগে থেকেই সারদাগঞ্জের প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত কামাল হোসেন (৪৮) ও তরিকুল ইসলাম সবুজ (৪৯) তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কিন্তু তিনি তাদের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় গত ১৪ অক্টোবর সবুজের একটি আস্তানায় তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে দুই জনে ধর্ষণ করে। এ সময় কামাল আর সবুজ তার শরীরের বিভিন্নস্থানে সিগারেটের আগুন দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়। ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্নস্থানে রক্তাক্ত জখম করে। কোনো মতে তিনি মাকে ফোনে বিষয়টি জানান। তার মা কাশিমপুর থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে পাশের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখান থেকে সরকারি কোনো হাসপাতালে না নিয়ে তাকে বাসায় দিয়ে যায় পুলিশ। পাশাপাশি থানা পুলিশের একজন কর্মকর্তা তাকে আশ্বস্ত করেন, খুব শিগিগরই ধর্ষকদের ধরা হবে। এর পর তিনি বাসাতেই চিকিত্সা নিচ্ছিলেন। কিন্তু পুলিশ কোনো মামলা বা ধর্ষকদের গ্রেফতার না করায় দূরসম্পর্কের এক আত্মীয়ের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে বলে দেওয়ার পর ২১ অক্টোবর পুলিশ একটা মামলা নেয়।

এই নারী বলেন, পুলিশ মামলা নিলেও ধর্ষণের মামলা না নিয়ে শ্লীলতাহানির মামলা নেয়। যা তিনি প্রথমে বুঝতে পারেননি। ঐ দিনই পুলিশ কামালকে গ্রেফতার করে। কিন্তু অর্থশালী সবুজকে মামলায় আসামি করেনি। ফলে বাইরে থেকে সবুজ তাকে অব্যাহতভাবে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিতে থাকে। এর মধ্যে ২৬ দিন পর কামালও জামিনে ছাড়া পায়। এরপর দুই জন মিলে তার ও তার পরিবারের সদস্যদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এমনকি আবারও তার বোনসহ তাকে গণধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে। এই মামলার পেছনে তাদের যে খরচ হচ্ছে সেই টাকাও ঐ নারীকে পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছে দুই ধর্ষক। ঐ নারীর অভিযোগ, অদৃশ্য কারণে থানা পুলিশ তাদের বিষয়ে চুপ রয়েছে। বারবার নিরাপত্তার বিষয়ে থানায় অবহিত করা হলেও তারা কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। কারণ হিসেবে ঐ নারী মনে করেন, কামাল ও সবুজ এলাকায় প্রভাবশালী এবং বিপুল সম্পত্তির মালিক। অর্থের বিনিময়ে তারা সবকিছু ম্যানেজ করছেন। ধর্ষকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

কাশিমপুর থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘কেউ যদি তাকে হুমকি দিয়ে থাকে তাহলে উনি তো জিডি করতে পারেন। আমার যতদুর মনে পড়ে, উনি থানায় এসেছিলেন। আমি তাকে জিডি করার কথা বলেছি। কিন্তু তিনি কেন জিডি না করে ফিরে গেছেন তা জানি না। উনি যদি আমাদের কাছে নিরাপত্তা চান তাহলে আমরা অবশ্যই তার নিরাপত্তা দেব। কিন্তু জামিনে থাকা আসামিকে তো একই মামলায় আবার গ্রেফতার করতে পারি না।’