টানা ১২দিনের আন্দোলনে

আশুগঞ্জে হাম-রুবেলা ও ইপিআই কার্যক্রম বন্ধ

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২০, ১৪:২৬

বেতন বৈষম্য নিরসন ও গ্রেড পরিবর্তনের দাবিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের টানা কর্মবিরতির কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ১৬৮টি কেন্দ্রে ইপিআই কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। রবিবারের হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিও বন্ধ ছিল। সরেজমিনে সোমবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায় আন্দোলনকারীরা কাজে যোগ না দিয়ে কমপ্লেক্স চত্বরে কর্মবিরতি পালন করছে। শিশুদের টিকা দেয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছে অভিভাবকরা। ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে আন্দোলনে অংশ নেয়া স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের অবস্থান থেকে সরে না এলে বিকল্প ব্যবস্থায় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিও বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য পরিদর্শকদের জন্য ১১তম, সহকারী স্বাস্থ্য পরির্দশকদের ১২তম এবং স্বাস্থ্য সহকারীদের জন্য ১৩তম গ্রেড দাবি করে ২৬ নভেম্বর থেকে কর্মবিরতি শুরু হয়। 

উপজেলার চরচারতলা গ্রামের গৃহবধূ শাহিনুর বেগম জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যে তার দেড় বছর বয়সী শিশুটির পরবর্তী ডোজের টিকা দেওয়ার কথা। কিন্তু লাগোয়া সবকটি কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হয়নি।শিশুদের এই টিকা কার্যক্রম নিয়ে অবহেলা করা ঠিক হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য সহকারী জেরিন সুলতানা পাপড়ি জানান, বেতন বৈষম্য দূর করা এবং প্রস্তাবিত গ্রেড বাস্তবায়নের ব্যাপারে ১৯৯৮ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিষয়ে চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর লিখিত অঙ্গীকার রয়েছে। কিন্তু এখনো বিষয়টি বাস্তবায়ন হয়নি।

আশুগঞ্জ দাবি বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক আজম খান বলেন, আন্দোলনে গেছি বেশ কিছুদিন হয়ে গেলেও ঊর্ধ্বতনরা আমাদের নিয়ে ভাবছে বা এই নিয়ে দুচিন্তা আছে এমন আভাস পাওয়া যায়নি। ফলে মনে হচ্ছে, আন্দোলন দীর্ঘ হবে।দাবি আদায় না হলে পরবর্তী তারিখেও তাঁদের পক্ষে হাম-রুবেলা টিকাদানে অংশ নেয়া সম্ভব হবে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুপুর সাহা জানান, এই মুহূর্তে হাম–রুবেলাসহ ইপিআই সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এই মুহূর্তে যারা আন্দোলনে করছেন মূলত তারাই মাঠ পর্যায়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে থাকেন। হাম-রুবেলা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নিয়ে আন্দোলনকারীদের অনাগ্রহের কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। হাম-রুবেলার সময় পেছানোর আর সুযোগ নেই। স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের অবস্থান থেকে সরে না এলে বিকল্প ব্যবস্থায় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/কেকে