নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদ অভিযানে হামলার ঘটনায় ৫ শতাধিক গ্রামবাসীকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সোনারগাঁও জোনাল বিপণন অফিসের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. মিজবাহ-উর-রহমান বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় এ মামলা দায়ের করেন। এতে ৩৩ জনের নাম উল্লেখ্য ও অজ্ঞাত আরো ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় ঘটনাস্থলে আটক ১০ জনের মধ্যে ৯জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আরেকজন পরীক্ষার্থী হওয়ায় পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
মামলায় আসামিরা হলো-উপজেলার ঝাউগরা এলাকার জয়নালের ছেলে কিরন (২৭), জলিলের ছেলে হেলাল উদ্দিন (৪৩), ছামাদের ছেলে শহীদ (৪০), বাউয়া ডাক্তারের ছেলে আলাউদ্দিন (৪০), নুর ইসলামের ছেলে মামুন (৩৫), ইদ্রিস আলীর ছেলে শাহজাহান (৩৫), আব্দুল হাইয়ের ছেলে শহীদ (৪০), জয়নালের ছেলে মানিক (৩২) ও মাছুম (২৬), আব্দুল মান্নানের ছেলে মাসুদ (৩০), এনামুল (২৬) ও এমদাদুল (২৩), জুয়েল (৩৩), অহিদ মেম্বারের ছেলে শিবলু (৩৪), মৃত আদম আলীর ছেলে আরমান (৪২), আবুল হাসেমের ছেলে জাকির (৪৮), হারুন রশিদের ছেলে দাউদ (৪২), আলমগীর (৩৩), ছলিম উদ্দিনের ছেলে নজরুল ইসলাম (৪০), আয়নাল হকের ছেলে আল আমিন (৪২), মৃত ছামাদের ছেলে অহিদ (৪৫), জলিলের ছেলে হেলু মিয়া (৩০), মিলেনের স্ত্রী পাপিয়া (২৫), মৃত জংশেদ আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম (৪৮), মৃত জাবেদ আলীর ছেলে শহিদুল্লাহ (৫২), সোবহানের ছেলে নজরুল ইসলাম (১৯), সাইফুল ইসলামের ছেলে ফাহিম ইসলাম আকাশ (১৮), আফজাল হোসেনের ছেলে মাহফুজ (১৮), আব্দুর রহমানের ছেলে ইকবাল হোসেন (৩০), মৃত আউলাদ হোসেনের ছেলে সাইফুল মোল্লা (৩০), শাহজাহানের ছেলে আরিফ (১৯), মৃত আবু তালেবের ছেলে মো. সাকিব (২২), মো. ফারুকের ছেলে মো. জাকারিয়া (১৮)।
এরমধ্যে রবিবার বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে আটক সাইফুল ইসলাম (৪৮), শহিদুল্লাহ (৫২), নজরুল ইসলাম (১৯), ফাহিম ইসলাম আকাশ (১৮), ইকবাল হোসেন (৩০), সাইফুল মোল্লা (৩০), আরিফ (১৯), মো. সাকিব (২২), মো. জাকারিয়া (১৮) আদালতে পাঠানো হয়েছে। আর মাহফুজকে (১৮) পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
আরো পড়ুন: দারিদ্রতা হার মানাতে পারেনি প্রমিলা ফুটবলারদের
আড়াইহাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শওকত হোসেন বলেন, অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়া, সরকারি কাজে বাধা, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে তিতাস কর্মকর্তা মো. মিজবাহ-উর-রহমান বাদী হয়ে ৩৩ জনের নাম উল্লেখ ও ৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় রবিবার বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে আটক ১০ জনের মধ্যে ৯জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আরেকজন পরীক্ষার্থী হওয়ায় পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।
মামলায় তিতাস কর্মকর্তা মিজবাহ উর রহমান উল্লেখ করেন, কিরন, হেলাল উদ্দিন, শহীদ, আলাউদ্দিন, মামুন, শাহজাহান, শহীদ, মানিক, মাছুম, মাসুদ, এনামুল, এমদাদুল, জুয়েল, শিবলু, আরমান, জাকির, দাউদ, আলমগীর, নজরুল ইসলাম, আল আমিন, অহিদ, হেলু মিয়া, পাপিয়াসহ আরো কয়েকজন অজ্ঞাতনামা আসামি পরস্পর যোগসাজশে ঘটনাস্থলে অবৈধ গ্যাস লাইন সংযোগ দেয়।
প্রসঙ্গত, রবিবার দুপুরে উপজেলার ঝউগড়া উত্তরপাড়া এলাকায় তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ উচ্ছেদে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার উজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে তিতাস কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ অভিযান শুরু করে। অভিযানের এক ঘণ্টার পর কয়েক শতাধিক এলাকাবাসী উচ্ছেদকারীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এতে পুলিশের ৮ সদস্য আহত হয়। এছাড়াও সরকারি গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে ১৩ রাউন্ড টিয়ার শেল, ৭৬ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ১৬ রাউন্ড শটগানের (সীসা কার্তুজ) ফাঁকাগুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় হামলাকারী ১০জনকে আটক করে পুলিশ। আর আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আহতরা হলেন- কনস্টেবল আলোক, জাকির, আল মামুন, রানা, সাগর, এরশাদ, লিটন, আব্দুল জলিল।
ইত্তেফাক/এএএম
