কিন্তু কাজটা তত সহজ ছিল না। শত্রুরা ছিল সুরক্ষিত বাংকারের ভিতরে। সেখান থেকে তারা মুক্তিসেনাদের ওপর কামানের গোলা নিক্ষেপ করছিল। মহিউদ্দিন বাংকার ধ্বংসের কথা ভাবছেন। এর মধ্যে দেখেন এক কিশোর যোদ্ধা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংকারের ওপর দুটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। এতে করে মহিউদ্দিন তার বাহিনী নিয়ে শত্রু বাহিনীর দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন।
শত্রুসেনারা অনেকগুলো বাংকার তৈরি করে রেখেছিল। দুটো ধ্বংস হলেও অন্যগুলো থেকে তারা বৃষ্টির মতো গোলা বর্ষণ করে মুক্তিযোদ্ধাদের হতাহত করছিল। কয়েকজন সহযোদ্ধা তাঁর চোখের সামনেই মৃত্যুবরণ করেন। মহিউদ্দিন একটি গ্রেনেড শত্রুর বাংকারে ছুঁড়ে সেটি ধ্বংস করে দেন এবং সরে পড়তে চেষ্টা করেন। এমন সময় হঠাত্ করে সাইপারের একটি বুলেট তাঁর একেবারে কপালে এসে লাগে। সাথে সাথে তিনি বাংলা মায়ের কোলে লুটিয়ে পড়েন। সামনা সামনি যুদ্ধে বীরের মতো লড়তে লড়তে প্রাণ ত্যাগ করেন এই যোদ্ধা। ২-৩ জন যোদ্ধা নদী সাঁতরে এসে তাঁর মৃত্যু সংবাদ দেয়। সেই খবরে মুক্তিযোদ্ধারা লড়াই আরও তীব্র করেন এবং পাকবাহিনী সেই ঘাঁটি থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। পরের দিন মহিউদ্দিনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। যুদ্ধকালীন মহিউদ্দিনের সাংকেতিক নাম ছিল টাইগার। টাইগারের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী পূর্ববর্তী সেক্টর কমান্ডার মেজর নাজমুল হকের সমাধির পাশে সোনা মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁকে দাফন করা হয়। সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল নুরুজ্জামান দাফন ক্রিয়ার সময় সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।
বীরদের রক্তেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। শহিদদের আত্মবলিদানে বাংলার সাত কোটি মানুষ নিজেদের মানচিত্র ও পতাকা পেয়েছে। এঁদের ঋণ শোধ হবার নয়। বাঙালি সব সময় কৃতজ্ঞ চিত্তে তাঁকে স্মরণ করবে।
