উপকূলে শতবর্ষ প্রাচীন মত্স্য বন্দর পিরোজপুরের পাড়েরহাটকে ব্লু-ইকোনমি ধারণার প্রেক্ষাপটে নতুন করে গড়ে তোলা হচ্ছে। সামুদ্রিক মত্স্য সম্পদের বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে জাতীয় সমৃদ্ধির মূলধারায় সম্পৃক্তির অপার সুযোগ রয়েছে এই মত্স্য বন্দরটিকে ঘিরে। এখানে রয়েছে জেলে বসতি, শতবর্ষ প্রাচীন বাজার এবং বেসরকারি মত্স্য অবতরণকেন্দ্র, বরফ কল, মিনি ডকইয়ার্ড, ওয়ার্কশপ ইত্যাদি। পাশাপাশি বর্তমানে নির্মাণাধীন রয়েছে বিএফডিসির আধুনিক মত্স্য অবতরণ কেন্দ্র, পরিকল্পনাধীন রয়েছে সার্ভিলেন্স চেকপোস্ট। সুযোগ রয়েছে ফিশ ইকোনমিক জোন স্থাপন, শুঁটকিপল্লি প্রতিষ্ঠা, বড় ডকইয়ার্ড, হিমাগার নির্মাণের। পিরোজপুরের বিশিষ্ট মত্স্য ব্যবসায়ী ও দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহানুর রহমান শামীম বলেন, পাড়েরহাটকে কেন্দ্র করে মত্স্যসম্পদ বিকাশের যে সম্ভাবনা বিদ্যমান, তা সফল করতে সরকারি-বেসরকারি সব উদ্যোগের সমন্বয় প্রয়োজন। ব্লু-ইকোনমি কনসেপ্ট বাস্তবায়নে পাড়েরহাটকে ঘিরে প্রয়োজনীয় ও টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়ার এখনই সময়।
শতবর্ষ ধরে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের এককালের সবচেয়ে বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী ছিল পাড়েরহাট বন্দর। এ বন্দরকে ঘিরে অর্ধশতাব্দীকাল থেকে এখানেই চলছে বেসরকারি মত্স্য অবতরণ কেন্দ্রে সামুদ্রিক মাছের শত শত কোটি টাকার বাণিজ্য। আবর্তিত হচ্ছে লাখো লাখো মানুষের জীবন-জীবিকার ধারা। বিএফডিসি (বাংলাদেশ মত্স্য উন্নয়ন করপোরেশন) পাড়েরহাট বন্দরসংলগ্ন বাদুরায় ইতিমধ্যে শেষ করে এনেছে বৃহদাকারের একটি আধুনিক মত্স্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ। ১১ কোটি ৯১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা ব্যয়বরাদ্দের বিএফডিসির এই মত্স্য অবতরণ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ ২০২১ সালের মার্চ মাস নাগাদ সম্পন্ন হবে বলে জানান দেশের তিনটি উপকূলীয় জেলার চারটি স্থানে আনুষঙ্গিক সুবিধাসহ মত্স্য অবতরণ কেন্দ্র স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক বিএফডিসির মো. জামাল হোসেন মজুমদার। ২ দশমিক ৩৬ একর জায়গা জুড়ে নির্মাণকাজ চলছে। ১০ হাজার বর্গমিটারের অকশনশেড, ৫০ জন আড়তদারের ব্যবহার উপযোগী দ্বিতল আড়তঘর, আইসপ্লান্ট, অফিস ভবন, ম্যানেজারের বাসভবন, সীমানা প্রাচীর, ফিশিংবোটের জেটি, পন্টুন ও গ্যাংওয়ে, পাবলিক টয়লেট, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া প্রকল্প এলাকার মাটিভরাট কাজ সম্পন্ন হয়েছে, দেওয়া হয়েছে পল্লি বিদ্যুতের সংযোগও। মত্স্য বিভাগের সাসটেইনেবেল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্টের বরিশাল বিভাগের উপপ্রকল্প পরিচালক মো. কামরুল ইসলাম জানান, বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় সামুদ্রিক জেলেদের নানাবিধ সেবায় উপকূলে ১৬টি সার্ভিলেন্স চেকপোস্ট স্থাপনকল্পে সরকার একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। যার মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে যে ছয়টি চেকপোস্ট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে পিরোজপুরের পাড়েরহাটে। অচিরেই এ ক্ষেত্রে অর্থ বরাদ্দ, জমি অধিগ্রহণ, অবকাঠামোগত নির্মাণের ডিজাইন, প্লান ও টেন্ডারের কাজ সম্পন্ন হবে বলে তিনি জানান। পাড়েরহাটে নির্মাণাধীন বিএফডিসির মত্স্য অবতরণ কেন্দ্রটির পাশেই এ চেকপোস্টটি স্থাপিত হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের লিংক ব্যবহার করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফিশিং বোটের রেজিস্ট্রেশন, মুভমেন্ট মনিটরিং, দুর্যোগে উদ্ধার কাজসহ নানা সেবা থাকবে চেকপোস্টের নিয়ন্ত্রণে।
