কেশবপুরে হরিহর নদী ও সংযোগ খালে নাব্য না থাকায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে বোরো আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, হরিহর নদী দিয়ে কেশবপুর শহরসহ পূর্বাংশের পানি নিষ্কাশন হয়। এই নদী নাব্য হারানোর পাশাপাশি এর সংযোগ খালগুলোও নাব্য হারায়। যার কারণে গরালিয়া, টেপুর বিল, মধ্যকুল বিল, বলদহালি, পাঁচবাকাবরশি, খতিয়াখালি, কাকিলাখালি, তেঘরী ও পরচক্রা বিলে এখনও কোমর সমান পানি রয়েছে। ঘেরের শর্তানুযায়ী ঘের মালিকরা ঘেরের পানি শ্যালো মেশিন দিয়ে নিষ্কাশনের কাজ চালিয়ে গেলেও নাব্যর অভাবে অতিরিক্ত পানি হরিহর নদীতে নিষ্কাশন হচ্ছে না। এদিকে চুয়াডাঙ্গা, পাথরা ও বুড়ুলি এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইস গেটসহ হরিহর নদীর সংযোগ খালও ভরাট হয়ে গেছে। ফলে উপজেলার পাঁজিয়া, মঙ্গলকোট ও সুফলাকটি ইউনিয়নের কৃষকরা বদ্ধ পানি সরাতে পারছেন না। পূর্বাংশের বিভিন্ন বিলের মাছের ঘেরের পানির গেট পেরিয়ে মূল খালে প্রবাহিত হতে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় বোরো চাষ কঠিন হয়ে পড়েছে। গত ৯ জানুয়ারি থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকরা স্ব উদ্যোগে বিঘা প্রতি ১শ টাকা হারে চাঁদাসহ নিজেরা শ্রম দিয়ে সংযোগ খালের পলি অপসারণের কাজ করছেন। অপরদিকে পূর্বাংশের ২৭ বিলের পানি নিষ্কাশন হয় কাটাখালি আট ব্যান্ডের স্লুইস গেট দিয়ে। এ স্লুইস গেটও পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি সরতে পারছে না। এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে কাটাখালি আট ব্যান্ডের স্লুইস গেটের পলি অপসারণের কাজ চলছে। কিন্তু কাটাখালি খাল ভরাট হওয়ায় পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে ওই এলাকার কৃষকরা বছরের একমাত্র ফসল বোরো চাষ করতে পারবে কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
উপজেলার পাঁজিয়া গ্রামের কৃষক বাবুর আলী সরদার, বারিক সরদার ও মুনছুর গাজী জানান, ৩০ পৌষের ভেতর বিলের অভ্যন্তরে ঘেরের পানি সেচ দিয়ে নিষ্কাশন করার কথা। কিন্তু ঘের মালিকরা এখন পর্যন্ত বিলের পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তবে পাঁচবাকাবরশি বিলের ঘের মালিক কামরুজ্জামান শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি নিষ্কাশনের কাজ চালিয়ে গেলেও খাল ভরাট হওয়ায় পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। অতিরিক্ত পানির চাপে খালের বেড়িবাঁধ ধসে যখন তখন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানান, হরিহর নদী পলিতে ভরাট হওয়ায় বিল গরালিয়ার পানি নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না। তবে হরিহর নদী পুনখননের টেন্ডার ও ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়েছে। দ্রুত এ কাজ শুরু করা হবে। তাই একটু বিলম্ব হলেও কৃষকরা বোরো চাষ করতে পারবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান বলেন, হরিহর নদী খননের স্বার্থে মাইকিং করা হয়েছে। পানি সরাবে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কৃষকরা যাতে বোরো চাষ করতে পারে তার জন্যে তাদেরকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এইচএম আমির হোসেন বলেন, ওই এলাকার কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে হরিহর নদীর সংযোগ খালের পলি অপসারণের উদ্যোগ নিয়ে বোরো চাষ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সরকারের অপেক্ষায় না থেকে নিজেরাই উদ্যোগী হওয়ায় তাদের পাশে থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
