প্রণোদনার ঋণ পরিশোধে পাঁচ বছর সময় চায় বিজিএমইএ

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৩৯

করোনা ভাইরাসের ধাক্কায় থমকে পড়া দেশের শিল্প রক্ষায় সরকার প্রণোদনার আওতায় বিপুল অঙ্কের ঋণ দিচ্ছে শিল্পমালিকদের। এর আওতায় তৈরি পোশাক শিল্পমালিকরা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ পেয়েছে। ঋণ নেওয়ার ছয় মাস পর থেকে এ ঋণের অর্থ পরিশোধ শুরু হবে এবং পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে পুরো ঋণ পরিশোধ করতে হবে। তবে তৈরি পোশাক শিল্পমালিকরা দুই বছরের স্থলে ঋণ পরিশোধে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় চায়। অন্যদিকে ঋণ পরিশোধে মোরাটরিয়াম (ঋণ গ্রহণের পর যে সময় পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধ শুরু হয় না) ছয় মাসের বদলে এক বছর করার দাবি তাদের। গতকাল সোমবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক। তিনি বলেন, আগামী মাস থেকে প্রণোদনার ঋণের অর্থ পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের পরিশোধ করতে হবে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নতুন করে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নতুন করে ক্রয়াদেশ কমছে। অন্যদিকে পোশাকের দরপতন হয়েছে নজিরবিহীনভাবে। এ পরিস্থিতিতে আগামী মাস থেকে ঋণের অর্থ পরিশোধ করা একেবারেই সম্ভব হবে না। মোরাটরিয়াম ছয় মাসের বদলে এক বছর করা দরকার। এছাড়া ঋণ পরিশোধের মেয়াদ বাড়িয়ে পাঁচ বছর করার দাবিও তার। তিনি বলেন, শিল্পের স্বার্থে এ মুহূর্তে নীতি সহায়তা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

করোনা ভাইরাস শুরু হওয়ার পর গত মার্চ থেকে পোশাক রপ্তানিতে অব্যাহত ধস এবং নতুন অর্থবছর থেকে তা কিছুটা কাটিয়ে উঠলেও দ্বিতীয় ঢেউয়ে নতুন করে এ খাতের জন্য হুমকির বিষয়টি উল্লেখ করেন বিজিএমইএ সভাপতি। বিশেষত এ সময়ে ব্যাপকভাবে দর কমে যাওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের পোশাকের দরপতন হয় ৫ দশমিক ২৩ শতাংশ। এছাড়া অক্টোবর মাসে ৪ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং নভেম্বরে প্রায় ৫ শতাংশ।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, একের পর এক পশ্চিমা ক্রেতারা দেউলিয়া হওয়ার আবেদন করায় অনেক রপ্তানিকারক বিপাকে পড়ছেন। অন্যদিকে ক্রয়াদেশ বাতিল না করে কৌশলে পিছিয়ে দেওয়ার পথে হাঁটছেন অনেকে। কিন্তু এটিকে বাতিলই বলা যায়। আগামী মাসগুলোতে রপ্তানি আদেশ ৩০ শতাংশ কম বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অবশ্য করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে বাংলাদেশ প্রতিযোগী দেশগুলোর চাইতে ভালো করবে বলে আশার কথা জানান ড. রুবানা হক। তিনি বলেন, ভিয়েতনামের রপ্তানির প্রধান পণ্য গার্মেন্টস নয়, কম্বোডিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে জিএসপি সুবিধা হারিয়েছে আর আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ায় অভ্যন্তরীণ সংঘাত পরিস্থিতি চলায় আগামী দিনগুলো বাংলাদেশের রপ্তানির জন্য ইতিবাচক হতে পারে।