বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য হবেই

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৪১

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ভাস্কর্যের বিকল্প হিসেবে মুজিব মিনার নির্মাণের যে প্রস্তাব হেফাজতে ইসলামসহ বিরোধীরা দিয়েছে, তা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, ‘নির্মাণাধীন ভাস্কর্যের কাজ চলবে। আমরা ভাস্কর্য নির্মাণ করব। তারা যে প্রস্তাব দিয়েছে, এটা তাদের বিষয়। কোনো অবস্থাতেই এ প্রশ্নে আপস করা যায় না। এটা অযৌক্তিক, অগ্রহণযোগ্য। ভাস্কর্য মুসলিম দেশগুলোতে আছে। সৌদি আরব, কাতার, মিশর, ইরান, তুরস্ক, পাকিস্তানেও ভাস্কর্য আছে। ঐ সব দেশের মানুষ তো সেখানকার ভাস্কর্য নিয়ে কথা বলে না!’

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক ইস্যুতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যের ওপর হামলার ধৃষ্টতা যারা দেখিয়েছে, তাদের চরম মূল্য দিতে হবে। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, উপযুক্ত প্রমাণ পেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা যারা ঘটাবে, তা অবশ্যই সংবিধান ও রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। কারণ বঙ্গবন্ধু তো আমাদের জাতির পিতা।’ তিনি বলেন, দোলাইরপাড়ে নির্মাণাধীন ভাস্কর্যের কাজ চলবে। ভাস্কর্য হবেই। ভাস্কর্য ও মূর্তি এক নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মূর্তি হলো দেবতার পূজা আর ভাস্কর্য তো মানুষের ভাস্কর্য। দেবতাকে তো পূজা করা হয়, কিন্তু এখানে তো মানুষকে পূজা করা হচ্ছে না। কাজেই এটাকে তারা কেন এভাবে নিচ্ছে? কুষ্টিয়ায় তারা যেটি করেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও মধুদার ভাস্কর্যের ওপর হামলা চালিয়েছে। এটা যারাই করবে এবং যারা এর ধৃষ্টতা দেখাবে, তাদের চরম মূল্য দিতে হবে।

অহেতুক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাই না

মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে ধর্ম খুব স্পর্শকাতর। তাই হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে উসকানিমূলক কিছু করে দেশে অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি হোক, আমরা তা চাই না। রাজনৈতিকভাবে সংকটের সমাধান করতে চায় সরকার।’ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় একটি ননপলিটিক্যাল সংগঠন মামলা করেছে। বিষয়টি আপনারা কীভাবে দেখছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কোনো দলের নয়। তাই অরাজনৈতিক কোনো সংগঠনের মামলা করাটা ইতিবাচক। আমরা সরকারে আছি। হুট করে মাথা গরম করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিজেই দেখছেন। আমরা ভেবেচিন্তে যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাই।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কেউ হুকুম দিয়েছে এমন কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।  অহেতুক দেশে অশান্তি-বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাই না।’

মুসলিম দেশগুলোতে মাঝেমধ্যে এ ধরনের ধর্মীয় ইস্যু চলে আসে

আরেক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তাদের সাক্ষাত্ দেবেন কি না, সেটি আমি জানি না। আলোচনার সুযোগ আছে কি না, সেটাও প্রধানমন্ত্রী দেখছেন। সব বিষয়েই সরকারপ্রধান যদি মনে করেন তাহলে হতে পারে। তিনি যা সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই।’ মন্ত্রী বলেন, ‘শাপলা চত্বরে হেফাজতের ব্যানারে একটা আন্দোলন হয়েছিল। সেটা তো দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মুসলিম দেশগুলোতে মাঝেমধ্যে এ ধরনের ধর্মীয় ইস্যু চলে আসে। এর পেছনে রাজনৈতিক কারণও আছে। আমরা এগুলো পর্যবেক্ষণ করছি। এখন তো বাংলাদেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদ করছে। কিছু কিছু বিষয় আমাদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা উচিত।’ হেফাজতের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তাদের কওমি মাদ্রাসার ১৪ লাখ স্টুডেন্ট আছে। তারা মেইনস্ট্রিম থেকে দূরে আছে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মেইনস্ট্রিমে তাদের আনার জন্য দাবিটাকে ন্যায়সম্মত মনে হয়েছে। সে জন্য তাদের দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। তার মানে এই নয়, তাদের সঙ্গে সমঝোতা করেছি। হেফাজত কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয় যে তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা করব।’

বিএনপির উসকানি আছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে

এ ঘটনার পেছনে বিএনপি-জামায়াতের উসকানি আছে কি না, জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের উসকানি আছে কি না, সেটি আমরা খতিয়ে দেখছি। তারা তো ভর করে বিভিন্ন আন্দোলনের ওপর। এখন তারা আর কিছু না পেয়ে হেফাজতের ইস্যুতে ভর করছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখার বিষয়। কারণ নিজেদের তো কিছু করার সামর্থ্য নেই, সেটা প্রমাণিত।  তারা আজকে বড় বড় কথা বলে। অথচ ১ হাজার লোক নিয়ে একটা বিক্ষোভ মিছিল করতে পারেনি নিজেদের নেতার জন্য।’

এক বছরের মধ্যে পদ্মা সেতু চালু হবে

ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে পদ্মা সেতুর শেষ স্প্যানটি বাসানো হবে বলে আমরা আশাবাদী। এরপর ১০ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হবে এবং সবার জন্য তা উন্মুক্ত করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতুতে ঢালাইয়ের কাজ, সড়কের জন্য প্রস্তুত করা, রেলের জন্য প্রস্তুত করার কাজ বাকি আছে।