চট্টগ্রাম বন্দরের তিন জাহাজ যাচ্ছে শিপিং করপোরেশনে

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৪৯

চট্টগ্রাম বন্দরের তিনটি কন্টেইনারবাহী জাহাজ অবশেষে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনকে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে এই তিনটি জাহাজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিন বছর পেরিয়ে গেছে। জাহাজ তিনটির পরামর্শক প্রতিষ্ঠান, চবকের আইন কর্মকর্তা এবং আইন উপদেষ্টা জাহাজ তিনটি ইতিপূর্বে নিলামে বিক্রির পক্ষে মতামত দিয়েছিলেন। সর্বশেষ চট্টগ্রাম বন্দরের বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাহাজ তিনটি চলাচলের উপযোগী কি না এ ব্যাপারে ডিজি শিপিংয়ের একজন সার্ভেয়ারসহ পাঁচ সদস্যের টেকনিক্যাল কমিটির মতামত গ্রহণ করা হয়। কমিটি মতামত দেয়, জাহাজ তিনটি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের নিকট দেওয়া হলে তারা মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে পরিচালনা করতে পারবে। তাই জাহাজ তিনটি শিপিং করপোরেশনের নিকট হস্তান্তরের সুপারিশ করা হয়।

সূত্রে জানা যায়, টেকনিক্যাল কমিটির মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জাহাজ তিনটি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের নিকট হস্তান্তরের ব্যাপারে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি চেয়েছে। প্রায় ৪৯ কোটি টাকায় কেনা জাহাজ তিনটি ২০১৭ সালের শেষের দিক থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে অলস পড়ে আছে। জানা যায়, কর্তৃপক্ষ বারবার চেষ্টা করার পর সন্তোষজনক ভাড়া না পাওয়ায় জাহাজ তিনটি বন্দরের জেটিতে পড়ে আছে। ২০১৩ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষ কেনার পর নিজেরাই পরিচালনা করে। কিন্তু এর পরিচালনা ব্যয় ও আয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকায় জাহাজগুলো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিকট ভাড়া দেয়। কিন্তু বেসরকারি শিল্প গ্রুপও প্রায় দুই বছর আট মাস ভাড়ায় চালানোর পর আবার বন্দরকে ফেরত দেয়।

২০১৩ সালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম-পানগাঁও রুটে চলাচলের জন্য এই তিনটি কন্টেইনারবাহী জাহাজ ক্রয় করে। চট্টগ্রাম থেকে নৌপথে কন্টেইনার পরিবহনের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০১০ সালে ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জের পানগাঁও এলাকায় কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করে। চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার জট কমানোর জন্য ঢাকা অভিমুখী কন্টেইনার পরিবহনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। পানগাঁও কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ হলেও চট্টগ্রাম-পানগাঁও রুটে               কন্টেইনারবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে কোনো জাহাজ কোম্পানি এগিয়ে আসেনি। ব্যাবসায়িক লাভজনক দিক বিবেচনায় সাফল্য আসবে না ভেবে কারো আগ্রহ দেখা যায়নি।

২০১৩ সালে নিজস্ব অর্থায়নে বিদেশ থেকে প্রায় ৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এমভি পানগাঁও এক্সপ্রেস, পানগাঁও ভিশন ও পানগাঁও সাকসেস নামক তিনটি পুরোনো জাহাজ ক্রয় করা হয়। প্রতিটি ১২০ থেকে ১৪০টি কন্টেইনার পরিবহন ক্ষমতা সম্পন্ন জাহাজ। বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জাহাজগুলো চট্টগ্রাম-পানগাঁও রুটে চালু করে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।