মেহেন্দিগঞ্জে ইউপি নির্বাচন স্থগিত হলেও সংঘাত থামছে না

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৪৯

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার নবগঠিত উত্তর ও দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ভোটগ্রহণের চার দিন আগে স্থগিত হলেও সংঘাত থামছে না। ১০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও রবিবার (৬ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন পরিচালনা-২ এর উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত আদেশে উলানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ বিভক্তিকরণের বিষয়ে দায়েরকৃত হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেন।

নির্বাচন স্থগিত হলেও গত কয়েক দিন ধরে চলমান সংঘাত কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। সেখানকার বিবদমান আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতারা     বিভক্ত হয়ে সংঘাতে জড়াচ্ছে। নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পরদিন গতকাল সোমবার উলানিয়া উত্তর ইউনিয়নের সলদী ও নয়াখালী গ্রামে সংঘর্ষে গুরুতর আহত চার জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নৌকার সমর্থকরা তাদের ওপর এ হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে নৌকার প্রার্থী (স্থগিত হওয়া) নুরুল ইসলাম জামাল মোল্লা জানান, মেম্বার প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়েছি। আমি কিংবা আমার কোনো কর্মী এই হামলার সঙ্গে জড়িত না।

জানা গেছে, উত্তর উলানিয়ায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম জামাল মোল্লাকে মোকাবিলায় বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উলানিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম চৌধুরী মিঠু। এরই মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক লীগের জেলা কমিটি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে বহিষ্কার করে বিবৃতি দিয়েছেন। এছাড়াও দক্ষিণ উলানিয়ার নৌকা প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা যুবলীগ নেতা কাজী আব্দুল হালিম মিলন চৌধুরীকে মোকাবেলায় বিদ্রোহী প্রার্থী রুমা সরদারের ছেলে গোবিন্দপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক সরদারকেও বহিষ্কার করে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ। এছাড়া মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভা কমিটিসহ উলানিয়া ইউনিয়ন এবং চাঁনপুর ইউনিয়ন কার্যকরী কমিটির কার্যক্রম বাতিল করা হয়। উলানিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি আব্দুল মতিন, সহসভাপতি হাবিবুর রহমান লিটন ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন রাজুকেও বহিষ্কার করা হয়। গত ৩০ নভেম্বর বরিশাল স্বেচ্ছাসেবক লীগের বরিশাল জেলা সাধারণ সম্পাদক শহিদুল আলম মনির স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এরপর আরো উত্তপ্ত হতে থাকে সেখানকার পরিস্থিতি। শুক্রবার রাতে দক্ষিণ উলানিয়া দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থক ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সঘংর্ষে সাত পুলিশ আহত হন। এ সময় পুলিশ ৪৬ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

শনিবার দিনভর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস নৌকা উত্তর ও দক্ষিণ উলানিয়া গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তালুকদার মো. ইউনুস ইত্তেফাককে জানান, সেখানকার এমপি পঙ্কজ দেবনাথ উপজেলা চেয়ারম্যান পদের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও ছয় জন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থীকে এরই মধ্যে পরাজিত করেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু পঙ্কজ দেবনাথের ব্যক্তিগত লোক মনোনয়ন না পেলেই তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে পরাজিত করেন। তিনি বলেন, স্থগিত থাকা নির্বাচন পুনরায় অনুষ্ঠিত হলে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হবেন। কিন্তু দলের বাইরে যারা অবস্থান নেবেন তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

এদিকে মেঘনার পারের অপর উপজেলা হিজলায় রবিবার বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা বেগমের স্বামী গিয়াস উদ্দিন ও শ্রমিক লীগ নেতা মনির হোসেনসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।