নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে পূর্বশত্রুতার জের ধরে বিল্লাল হোসেন নামে এক মুদি ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার রাতে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের কলতাপাড়া মীরেরটেক এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। গতকাল সোমবার দুপুরে নিহতের বাড়ির পাশের একটি ঝোপ থেকে পুলিশ মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করলেও মাথার সন্ধান পায়নি। নিহত ব্যক্তির পরিধেয় কাপড় দেখে তার পরিবারের লোকজন তাকে শনাক্ত করেছে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে পুলিশ বলছে, বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন।
তার স্বজনদের দাবি, বাজারে দোকান নিয়ে বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে বিল্লালকে হত্যা করা হয়েছে। স্বজনরা জানান, রবিবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। রবিবার রাত ৮টার দিকে নিজের মুদি দোকান বন্ধ করে আর বাড়ি ফিরেননি বিল্লাল। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি। পরিবারের লোকজন তার মোবাইল ফোনে কল দিলেও তার সঙ্গে কারো আর যোগাযোগ হয়নি। সোমবার সকালে ছেলে ফয়সাল হোসেন বাড়ির পেছনে ঝোপে বাবার মাথাবিহীন লাশ পড়ে থাকতে দেখে চিত্কার দেয়। এ সময় আশপাশের লোকজন ছুটে আসে।
সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের লোকজন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তিকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবারের লোকজন।
বিল্লালের স্ত্রী রুমা বেগমের দাবি, বাজারে দোকান নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে এর আগেও এলাকার প্রভাবশালী সন্ত্রাসীরা দুইবার হামলা করে বিল্লাল হোসেনকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। সে ঘটনায় মামলা চলমান। এর জের ধরেই বিল্লাল হোসেনকে এবার হত্যা করা হয়েছে।
সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদরের জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) টি এম মোশাররফ হোসেন, সোনারগাঁও থানার ওসি রফিকুল ইসলামসহ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ পিবিআইর ক্রাইম সিন এবং সিআইডি পুলিশের একাধিক টিম। টি এম মোশাররফ হোসেন জানান, হত্যাকারীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
