আইসিডিডিআর,বির গবেষণার তথ্য

করোনার বিরুদ্ধে আইভারমেকটিনের কার্যকারিতা আশাব্যঞ্জক

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:২৯

গবেষণায় দেখা গেছে, কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে আইভারমেকটিনের কার্যকারিতা আশাব্যঞ্জক। যেসব রোগী অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধ আইভারমেকটিনের পাঁচ দিনের কোর্স পেয়েছেন, তাদের ভাইরাল ক্লিয়ারেন্স এবং রক্তের বিভিন্ন বায়োমার্কারের উন্নতি দেখা গেছে। কেবল আইভারমেকটিনের পাঁচ দিনের ডোজ ব্যবহারে করোনা ১৪ দিনের মাথায় ৭৭ শতাংশ ভাইরাস মুক্তির প্রমাণ পেয়েছে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার অব ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)।

পাঁচ দিনে ১২ মিলিগ্রামের ডোজে এই ফল মিলেছে, যা অন্য যে কোনো ওষুধের চেয়ে কার্যকর। তবে এখনই সরাসরি গাইডলাইনে অন্তর্ভুক্ত না করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আরো গবেষণার প্রয়োজন আছে বলে জানিয়েছে জাতীয় গাইডলাইন কমিটি। তবে চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া এই ওষুধ সেবন না করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘হাসপাতালে ভর্তি নিশ্চিতভাবে মৃদু কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সায় আইভারমেকটিন অথবা আইভারমেকটিনের সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক ডক্সিসাইক্লিন ব্যবহারের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা’ বিষয়ে গবেষণার ফলাফল অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। আইসিডিডিআর,বি এই সেমিনারের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, করোনা মহামারিতে কম হয়নি গবেষণা। দেশেও নানাভাবে গবেষণার সঙ্গী হয়েছেন চিকিত্সকরা। তবে এবারই প্রথম কোনো ওষুধ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ গবেষণা করল আইসিডিডিআর,বি। ৬৮ জন করোনায় আক্রান্ত রোগীর পর জুনের ১০ তারিখ থেকে সেপ্টেম্বরের ৮ তারিখ পর্যন্ত এই গবেষণায় নেওয়া হয় ৬৮ জন রোগী। তিনটি ভাগে ভাগ করে একটি দলকে দেওয়া হয় প্লাসিবো, অন্য দলকে আইভারমেকটিনের সঙ্গে ডক্সিসাইক্লিন ও তৃতীয় দলকে শুধু পাঁচ দিন ১২ এমজির আইভারমেকটিনের ডোজ দেওয়া হয়। ফলাফল ১৪ দিনের মাথায় প্রথম গ্রুপে ভাইরাস মুক্তির হার ৩৯ শতাংশ। দ্বিতীয় ভাগে ৬১ শতাংশ এবং শুধু আইভারমেকটিন খেয়ে ভাইরাস মুক্তির হার ৭৭ শতাংশ।

তবে গবেষণা আরো ব্যাপক আকারে হওয়ার দরকার বলে মনে করে জাতীয় পরামর্শক কমিটি। তার আগে পরীক্ষামূলকভাবে হাপাতালগুলোতে এই ডোজ ব্যবহারের সুপারিশ করছেন তারা। তবে গর্ভবতী ও শিশুদের এই ওষুধ না দেওয়ার পরামর্শ গবেষকদের। গবেষণার সার্বিক সহায়তা করেছে বেক্সিমকো ফার্মা।

আইসিডিডিআর,বির এন্টারিক অ্যান্ড রেসপিরেটরি ডিজিজিসের সিনিয়র ফিজিশিয়ান সায়েন্টিস্ট এবং এই গবেষণার প্রধান গবেষক ড. ওয়াসিফ আলী খান গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, যদিও কোনো সুদৃঢ় উপসংহারে পৌঁছানোর বিবেচনায় এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কম, তবুও প্রাপ্তবয়স্ক কোভিড-১৯ রোগীর চিকিত্সার শুরুতে আইভারমেকটিন ব্যবহারের উপকারিতা এই গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, পরবর্তীকালে আইভারমেকটিন নিয়ে বড় ধরনের ট্রায়ালের জন্য এই গবেষণালব্ধ জ্ঞান নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও এই ফলাফল কোভিড-১৯-এর চিকিত্সায় আইভারমেকটিনের ব্যবহার-সংক্রান্ত বিশ্বব্যাপী অন্যান্য গবেষণার ফলাফলের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।