স্বাধীনতার সূতিকাগার মেহেরপুরের মুজিবনগর। বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকারের শপথ গ্রহণ হয় এই মুজিবনগরে। মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কেন্দ্রের ভিতর স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরার জন্য ২০০৫ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সময় নিয়ে শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় বিভিন্ন ভাস্কর্য।
সেখানে জাতীয় চার নেতার ভাস্কর্যের অনার বোর্ডে দেওয়া হয়েছে ভুল তথ্য। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে এমনই ভুল তথ্য শোভা পাচ্ছে অনার বোর্ডে। কিন্তু এতগুলো বছর পার হলেও সংশ্লিষ্ট কোন কর্তৃপক্ষ অনার বোর্ডটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়নি।
অনার বোর্ডে বাম থেকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহাম্মদ, খন্দকার মোস্তাক আহম্মদ, এ এইচ এম কামরুজ্জামান, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও কর্ণেল এম এ জি ওসমানী। কিন্তু ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে দেখানো হয়েছে এএইচএম কামরুজ্জামান এবং এএইচএম কামরুজ্জামানকে দেখানো হয়েছে ক্যাপ্টেন মনসুর আলী।
মুজিবনগর কমপ্লেক্সে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, ‘এই ধরনের মারাত্মক ভুলে ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছে। নতুন প্রজন্মের যারা এই জাতীয় চার নেতার অবয়বের সাথে পরিচিত নয় তারা এই ভাস্কর্য দেখে বিভ্রান্ত হচ্ছেন।’
মুক্তিযোদ্ধা মেহেরপুরের রাধাকান্তপুরের বাসিন্দা আবুল কাসেম মাস্টার জানান, যারা অনার বোর্ডে লিখেছেন তাদের চোখে এ ভুল ধরা না পড়াটা আক্ষেপের। এতো বছর ধরে কারও চোখে পড়ল না। আর যদি চোখে পড়েও থাকে তারপরও সংশোধনের কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এটা আরও হতাশাজনক।
এ ব্যাপারে মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন সরকার জানান, যেহেতু এটা গণপূর্ত বিভাগ দেখাশুনা করে। তারপরও আমরা উপজেলা প্রশাসন থেকে সংশোধনের আবেদন করবো।
ইত্তেফাক/এসআই
