পিঁয়াজ না কিনলে তেল, চিনি এমনকি ডালও পাবেনা গ্রাহক, এমন শর্তে বরগুনায় টিসিবির পণ্য বিক্রয় করা হচ্ছে। প্যাকেজ গ্যারাকলে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। টিসিবির ডিলারদের এ অনৈতিক কর্মকান্ডে হয়রানির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
সোমবার (৭-১২-২০) বিকেল সাড়ে ৪ টায় শহরের আবুল হোসেন ঈদগাঁ মাঠ সংলগ্ন টিসিবির পণ্য বিক্রয় কেন্দ্রে সরোজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা যায় কামরাবাদ এলাকার অটোরিকসা চালক, মজিবর গাজী শুধু তেল কিনতে চাইলে তাকে ১০ কেজি পিয়াজ নিতে হবে অন্যথায় সে তেল পাবে না এমন কথা বলেন টিসিবির কর্মীরা। ফলে তারা তেল না কিনেই বাড়ি যেতে বাধ্য হন।
এর পূর্বে সোনাখালী গ্রামের আবুল বাসার নামে এক শ্রমিক টিসিবির তেল কিনতে আসলে তাকে টিসিবি কর্মীরা জানিয়ে দেয় ‘তেলের সাথে পিঁয়াজও কিনতে হবে’। ওই শ্রমিকের কাছে তেল ছাড়া অন্য কিছু কেনার টাকা না থাকায় তার কাছে তেল বিক্রি করা হয় নি।
টিসিবির ডিলার মো. ইউসুফ মিয়া বলেন, ৫ লিটার তেলের সাথে ১০ কেজি পিঁয়াজ বিক্রি করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে টিসিবি কর্তৃপক্ষ।
ভোক্তা অধিকার বিষয়ে জানতে চাইলে, বরগুনা-পটুয়াখালীর জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন এর সহকারি পরিচালক মো. সেলিম আহম্মেদ বলেন,কোন অনিয়ম চললে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।
বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হাসান বলেন, পিঁয়াজের চাহিদা কম, টিসিবি ডিলারদের তেলের সাথে পিয়াজ বাধ্যতামূলক আনতে হয়। একারণে ডিলারগণ পিয়ার বিক্রি করতে এ শর্ত জুড়ে দিয়েছেন।
টিসিবির বরিশাল বিভাগীয় সহকারি পরিচালক সাইফুল ইসলাম এ প্রতিবেদকে মুঠোফোনে জানান, ক্রেতা পিঁয়াজ না কিনলে তার কাছে তেল বিক্রি করা যাবে না, এমন কোন নির্দেশনা ডিলারদের দেয়া হয়নি। তবে ডিলারদের পিঁয়াজের পরিমাণ বেশি দেয়া হয়। এজন্য তারা কৌশল করে পিয়াজ বিক্রি করছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে পিঁয়াজের মূল্য কম তাই ডিলারদের নির্দ্দিষ্ট পরিমাণ পিঁয়াজ বিক্রির নির্দেশ দেয়া আছে।
মহামারি করোনা ভাইরাস দূর্যোগকালীন সময় পৌরসভাস্থ নিম্ন আয়ের মানুষে জন্য ন্যায্য মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে সরকার।
ইত্তেফাক/এমআর
