মধুপুর উপজেলার বিপ্রবাড়ী-শোলাকুড়ি ভায়া পিরোজপুর সড়কের দক্ষিণ ভুটিয়া চৌরাস্তা মোড় এলাকায় এক কিলো রাস্তা পাকা না হওয়ায় ২৫ কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা সদরে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন করতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটিরই অপচয় হয়।
জানা যায়, মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি, অরণখোলা, কুড়াগাছা ও ফুলবাগচালা ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় প্রায় ১০ হাজার একরে আনারস, কলা, কাঁঠাল, আম, পেয়ারা, পেঁপে, লেবু এবং সাড়ে ৪ হাজার একরে আদা, হলুদ ও সবজির চাষ হয়। এখানকার পঁচানব্বই ভাগ গৃহস্থ ফল, মসলা ও সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। সারা বছর ফল ও সবজি বাজারজাতকরণ, পরিবহন ও বিপণনে সড়ক যোগাযোগ জরুরি।
অরণখোলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য একাব্বর আলী জানান, এলজিইডি বিপ্রবাড়ী থেকে মালিরবাইদ হয়ে উত্তর ভুটিয়া পর্যন্ত আট কিলোমিটার সড়ক পাকা করেছে ১৯৯৮ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত। খিরু নদীতে ব্রিজ হলেও মাঝের এক কিলোমিটার রাস্তা কাঁচাই রয়ে গেছে। সুলতান অ্যাগ্রোফার্মের মালিক সুলতান আহমেদ জানান, এলাকায় বহু খামারভিত্তিক ফলোদ্যান গড়ে উঠেছে। সড়কের এক কিলোমিটার রাস্তা কাঁচা থাকায় বাইপাস সড়কটি কাজে আসছে না। ফলমূল, সবজি ও কৃষিপণ্য পরিবহনের ট্রাক এ সড়কে চলাচল করতে পারে না।
এমতাবস্থায় দোখলা-জলছত্র সড়ক হয়ে উলটা ২৫ কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে যেতে হয়। ভুটিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মাসুদ হোসেন জানান, দুই বছর ধরে শোলাকুড়ি-ঢাকা ভায়া মধুপুর রুটে বাস চলাচল করছে। কিন্তু বিপ্রবাড়ী- শোলাকুড়ি ভায়া পিরোজপুর বাইপাশ সড়কের কিছু অংশ কাঁচা থাকায় এ সড়কে বাস চলাচল করতে পারে না। বর্ষাকালে সিএনজিসহ সব ধরনের অটোরিকশা চলাচলও বন্ধ থাকে। আশপাশের হাটবাজার, স্কুল, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে সমস্যা হয়।
অরণখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম জানান, স্থানীয় এমপি এবং কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক অসমাপ্ত এক কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণের আশ্বাস দিয়েছেন। মধুপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী বিদ্যুত্ কুমার দাস জানান, টাঙ্গাইল প্রকল্পের আওতায় চলতি অর্থবছরে অসমাপ্ত এক কিলোমিটার সড়ক পাকা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
ইত্তেফাক/এসআই
