এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮:০৬

পতিত পাবন মণ্ডল

বিভাগীয় প্রধান, বাংলা

সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

১. নিচের উদ্দীপকটি পড়ে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও। 

গৌরী ও সঞ্জয় অনেক দিন ধরে একই অফিসে চাকরি করছে কিন্তু সহকর্মীরা জানে না দুজনার অন্তরে গভীর ক্ষত। গৌরীকে নিজে পছন্দ করে বিয়ে করতে চেয়েছিল সঞ্জয়। বছর পাঁচেক আগে লোক খাওয়ানো নিয়ে বিয়ে ভেঙেছে তাদের । পিতৃহীন সঞ্জয় কাকার আশ্রয়ে মানুষ তাই তার দোষ জেনেও প্রতিবাদ করতে পারেনি। একদিন গৌরীর কাছে নিজের অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরে সঞ্জয়। বলে, তার জন্য সে সারাজীবন অপেক্ষা করবে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে গৌরী বলে, “কী দরকার, এই তো বেশ আছি!”

ঘ. ‘এই তো বেশ আছি!’ গৌরীর এই উক্তিতে ‘অপরিচিতা’ গল্পের পরিণতি প্রতিফলিত হয়েছে উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

উত্তর: ‘এই তো বেশ আছি!’ গৌরীর এই উক্তিতে ‘অপরিচিতা’ গল্পের পরিণতি প্রতিফলিত হয়েছে উক্তিটি যথার্থ। কারণ আত্মমর্যাদা সচেতন নারীর যে রূপ কল্যাণীর মাঝে ফুটে উঠেছে তারই প্রতিফলন দেখা যায় উদ্দীপকের গৌরীর মাঝে ।

মানুষের স্বপ্ন একবার ভেঙে গেলে সেটা পুনরায় দেখতে সে দ্বিধান্বিত হয়। তার ওপর যদি  আত্মমর্যাদা আঘাত আসে তবে সেটাকে সে কিছুতেই মেনে নিতে পারে না। “অপরিচিতা” গল্পে অপরিচিতা বিশেষণের আড়ালে যে বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী নারীর কাহিনি বর্ণিত হয়েছে, তার নাম কল্যাণী। অর্থাত্ অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণী ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন নারী। অনুপমের সাথে বিয়ে ভেঙে গেলে সে পিতার যৌক্তিক মতামতকে সম্মান জানিয়েছে। পরবর্তীতে সে দেশসেবার ব্রত গ্রহণ করেছে। নারী জাগরণের পথপ্রদর্শক হয়ে কল্যাণী দেশের জন্য কাজ করে চলেছে। কিছুক্ষণের মধ্যে যে চিরদিনের হতে পারতো সে রয়ে গেল চির অচেনা। এরপর যদিও পুনরায় অনুপম-কল্যাণীর বিয়ে হতে পারত বা ট্রেন ভ্রমণে ইতিবাচক কিছু ঘটতে পারত, কিন্তু কল্যাণী বিয়ে না করার সিদ্ধান্তে অটল থাকায় তা আর সম্ভব হয়নি। তবু আশা ছাড়েনি অনুপম। কল্যাণীর প্রতি অনুরাগ তার মনে-বাইরে নিত্য জেগে থাকে। অনুপমের মামার বাড়াবাড়ি রকমের লোভ ও পণ প্রথার কারণে অনুপম-কল্যাণীর হূদয় ভেঙে যায়। তাই তাদের জীবন ফুলে-ফলে পরিপূর্ণ হতে পারে না। এক পর্যায়ে কল্যাণী ও শম্ভুনাথ বাবুর কাছে অনুপম বিগত ঘটনার জন্য হাত জোড় করে ক্ষমা চায়। অনুপমের অনুরোধে, মিনতি ও কান্নায়  শম্ভুনাথ সেনের মন নরম হলেও কল্যাণী স্পষ্ট জানিয়ে দিল, সে প্রতিজ্ঞা করেছে যে, বিয়ে করবে না।

উদ্দীপকের গৌরী ও সঞ্জয় একসময় প্রণয়ের বন্ধনে আবদ্ধ ছিল। তবে একপর্যায়ে সঞ্জয়ের কাকার বিরূপ আচরণে বিয়ে ভেঙে যায় তাদের। এতে পরবর্তীতে সঞ্জয় গৌরীর জন্য সারাজীবন অপেক্ষার কথা বললেও মন গলে না গৌরীর। কল্যাণীর মতো গৌরীর জীবনদর্শনে পরিবর্তন এসেছে। সংস্কৃতির ক্ষুদ্রগণ্ডি ছাড়িয়ে তারা দেশ ও মানবতার সেবায় এগিয়ে গেছে। উদ্দীপকের গৌরী এবং গল্পের কল্যাণী উভয় চরিত্রের মাধ্যমে সমাজে নারী জাগরণের বিষয়টি উঠে এসেছে। নারীও যে স্বতন্ত্র সত্তার অধিকারী হতে পারে, পারে পুরুষের উপর নির্ভর না করে সুপ্রতিষ্ঠিত হতে। সেই সাথে হতে পারে ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন এবং পুরুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ এ বিষয়টি অত্যন্ত অনুপমভাবে ভাষা রূপ দিয়েছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কল্যাণীর বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের জাগরণের মধ্যে ভবিষ্যতে নবরূপে নারীর আগমনী  বার্তা ধ্বনিত হয়।  কল্যাণী যেমন অনুপমের শত অনুরোধেও বিয়েতে রাজি হয়নি, তেমনি গৌরী সঞ্জয়ের কথার উত্তরে বলেছে ‘এই তো বেশ আছি। আত্মমর্যাদাবোধে উদ্বুদ্ধ নারীর যে রপ গল্পের পরিণতিতে লেখক তুলে ধরেছেন তারই দেখা পাই আমরা উদ্দীপকে গৌরীর মাঝে। গৌরীর উক্তিতে চারিত্রিক দৃঢ়তার প্রকাশ রয়েছে আর এর মধ্যেই ‘অপরিচিতা’ গল্পের পরিণতি প্রতিফলিত হয়েঝে।

তাই বলা যায়, এই তো বেশ আছি! গৌরীর এই উক্তিতে ‘অপরিচিতা’ গল্পের পরিণতি প্রতিফলিত হয়েছে উক্তিটি যথার্থ। কারণ কল্যাণী ও গৌরী উভয়ই আত্মমর্যাদা সচেতন নারীর প্রতিরূপ। তারা নব-নারীর প্রতিরূপ। যার মধ্যে ‘অপরিচিতা’ গল্পের পরিণতি প্রতিফলিত হয়েছে।