জন্ম ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে। বেগম রোকেয়ার লেখাপড়ার পেছনে ভাইয়েরা থাকলেও প্রকৃত লেখাপড়া শুরু হয় বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে। ১৮৯৮ সালে সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন খুব উচ্চশিক্ষিত। স্বামীর কাছ থেকে তিনি উর্দু ও ইংরেজি শেখেন। তাঁর সাহিত্যজীবন শুরু হয়েছিল স্বামীর উত্সাহেই, ১৯০২ সালে ‘পিপাসা’ নামে একটি গদ্য রচনার মধ্য দিয়ে। বেগম রোকেয়া তাঁর গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধে নারীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং নারীর অসম অবস্থা যুক্তির আলোকে তুলে ধরেছেন। সামাজিক সচেতনতা সর্বোপরি নারীসমাজের মুক্তিই ছিল তাঁর লেখনীর মূল সুর। তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে আছে ছোটগল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস, বিজ্ঞান কল্পকাহিনি ইত্যাদি। ‘মতিচুর’ এবং ‘সুলতানার স্বপ্ন’ বিশেষভাবে উলেখযোগ্য।
১৯০৯ সালের ১৩ মে তাঁর স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি লেখালিখি এবং সমাজ সংস্কারে আরো বেশি মনোযোগ দেন। ১৯০৯ সালের পয়লা অক্টোবর ভাগলপুরে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন, কিন্তু পারিবারিক কারণে কলকাতায় চলে আসতে হয় বসবাসের জন্য। ১৯১১ সালের ১৬ মার্চ কলকাতার ১৩ নম্বর ওয়ালিউলাহ লেনের একটি বাড়িতে গড়ে তোলেন ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল’। আটজন ছাত্রী নিয়ে শুরু হয় স্কুলের কার্যক্রম। বেগম রোকেয়া বুঝতে পেরেছিলেন নারীকে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত রেখে উন্নতির শিখরে ওঠা কখনোই সম্ভব নয়। তাই সারা জীবনই তিনি নারীদের সচেতন করতে কাজ করে গেছেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে মেয়েদের এবং তাদের অভিভাবকদের বোঝাতেন।
২০০৪ সালে বিবিসি বাংলার ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি’ জরিপে ষষ্ঠ স্থানে উঠে আসে বেগম রোকেয়ার নাম। সরকার প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর রোকেয়া দিবস পালন করে এবং বিশিষ্ট নারীদের ‘বেগম রোকেয়া পদক’ দিয়ে থাকে। বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত মহীয়সী বেগম রোকেয়া ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
জোবায়ের জুবেল
ডাকটিকিটে বেগম রোকেয়া
