রেলগেটে দীর্ঘ যানজটে নাকাল ঈশ্বরদীবাসী

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:১৯

ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা

ঈশ্বরদীর সড়কে রেলওয়ের ক্রসিংয়ে দীর্ঘসময় ধরে যানজটে পড়ে থেকে বিপুল কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। প্রতিটি যাত্রীবাহী ট্রেনের জন্য অন্তত ২০ বার বন্ধ করা হয় রেলগেটটি। এছাড়াও রয়েছে মালবাহী ও তেলবাহী ট্রেনের চলাচল। প্রতিবার ১৫-২০ মিনিট করে রেলগেটটি বন্ধ থাকায় সড়কের উভয় দিকে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। ট্রেন আসা-যাওয়ার আগে ও পরে দীর্ঘসময় সড়কপথের যাত্রীদের ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এখানে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের।

জানা যায়, ট্রেনের সংখ্যা এখন আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এদিকে রূপপুর প্রকল্পের জন্য পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে নতুন রেললাইন। ঈশ্বরদী রেল জংশন-সংলগ্ন রেলগেটটি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের সময় প্রতিদিন অন্তত ২০ বার বন্ধ রাখতে হয়। বৃহত্তম জংশনের রেলইয়ার্ডে সান্টিং কাজেও কোনো কোনো সময় রেলগেট বন্ধ রাখতে হয়। ঈশ্বরদী শহরের মধ্য দিয়ে রেলপথ ও স্টেশন নির্মাণ হওয়ায় শহর বলতে গেলে পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে বিভক্ত। ট্রেন চলাচলের জন্য প্রতিবার সিগন্যালে ১০ থেকে ২০ মিনিট করে বন্ধ থাকে রেলগেটের দুই প্রান্তের যোগাযোগ। ২৪ ঘণ্টায় ৬-৭ ঘণ্টা রেলগেট বন্ধ থাকায় যানজটের কারণে হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি ও সময় নষ্ট হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের বহু রেলগেটে এরই মধ্যে ডিজিটাল পদ্ধতির লক সিস্টেম চালু হলেও ঈশ্বরদী রেলগেটে এখনো লক সিস্টেমে পরিচালিত হচ্ছে। যাত্রীবাহী, তেলবাহী কিংবা মালবাহী ট্রেন ঈশ্বরদীর আগে বা পরের স্টেশন হতে ছাড়ার সময় রেলগেটটি সুইচ কেবিনের মাধ্যমে বন্ধ হয়। ট্রেন রেলগেট পার না হওয়া পর্যন্ত খোলা হয় না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পি এম ইমরুল কায়েস বলেন, ঈশ্বরদীর প্রধান সমস্যা হিসেবে ‘রেলগেট’ চিহ্নিত। এই সমস্যা সমাধানের জন্য জাতীয় সংসদে এমপি ও সাবেক ভূমিমন্ত্রী প্রয়াত শামসুর রহমান শরীফ ফ্লাইওভার নির্মাণের প্রস্তাব করেছিলেন। উপজেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার সিদ্ধান্তক্রমে প্রস্তাবও করা হয়েছে। পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ জানান, রেলগেটে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা গেলে ঈশ্বরদী আরো উন্নত হবে।