রবীন্দ্রনাথের গান পদ্মফুলের মতো। প্রতিবার গাইবার সময় সেই গানের ভাবসম্পদ ফুলের পাপড়ির মতো মেলতে থাকে। যতবার সেই গান গাওয়া হয় ততবার তার পাপড়ি প্রস্ফুটিত হয়। রবীন্দ্রনাথের গানের সুর ভাব ও বাণী এ তিনটি মিলে একটি ব্যঞ্জনা তৈরি হয়। এ তিনটির সমন্বয় হলেই একটি গান পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ পায়। গানে বিশ্বকবি আর সুরের কবির একটা মিল আছে। একজন গান শোনাচ্ছেন অপরজন শুনছেন। গানে সুরে মানুষ নানামাত্রা পাবে। সেখানেই এর সার্থকতা। কেননা সাহিত্য অশেষ। তাই তার যাত্রাও অশেষ। শিল্পীদের রবীন্দ্রনাথের গান নিয়ে ক্রমাগত আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। বইটি রবীন্দ্রসঙ্গীতের অনুরাগীদের নতুন আলোয় উদ্ভাসিত করবে।
গতকাল সন্জীদা খাতুন সম্পাদিত ‘গীতবিতান: তথ্য ও ভাবসন্ধান’ শীর্ষক রবীন্দ্রসংগীত বিষয়ক গ্রন্থের প্রথম খণ্ড প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। বইটির তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণায় ছিলেন কামরুল হায়দার।
রবীন্দ্রনাথের গানের বিশ্লেষণ ও তথ্যসমৃদ্ধ গ্রন্থটির প্রকাশনা অনুষ্ঠান হয়ে গেল গতকাল ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনের রমেশচন্দ্র দত্ত স্মৃতি মিলনকেন্দ্রে । গীতবিতানের ২ হাজার ৩শ গানের অধিক গানের মধ্য থেকে ১০০টি গানের ভাবসম্পদ বিশ্লেষণ ও তথ্যসূত্র স্থান পেয়েছে প্রথম খণ্ডে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। মোড়ক উন্মোচনের পাশাপাশি সন্জীদা খাতুনকে নিবেদিত আশীর্বচন ব্যক্ত করেন তিনি। আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী। ছায়ানটের শিল্পীদের কণ্ঠে ‘প্রথম যুগের উদয়দিগঙ্গনে’ এ রবীন্দ্রসঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। স্বাগত সম্ভাষণ করেন ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমেদ লিসা।
জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, রবীন্দ্রসংগীতের ভাবসম্পদের হূদয়গ্রাহী ব্যাখ্যা প্রকাশ পেয়েছে বইটিতে। গীতবিতান তথ্য ও ভাবসন্ধান নামে যে বইটি সম্পাদনা করেছেন এটা দুজনের কাজ। সন্জীদা খাতুন ভাবের দিকটি লিখেছেন, কামরুল হায়দার তথ্য সংগ্রহ করেছেন। রবীন্দ্রনাথ কোন গান কখন ও কোথায় কি উপলক্ষে লিখেছিলেন সেটি নিয়ে প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ বই লিখেছিলেন। আজকের বইটি প্রভাতকুমারের সেই কাজকে ছাড়িয়ে গেছে।
সন্জীদা খাতুন বলেন, সুরের বিবরণ দেয়া কঠিন। সুরের ভাবপ্রকাশে ভাষার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। গানের ভাব নিয়ে আমি একটি কথা বলে দিলাম সেটা চরম কথা হতে পারে না। এর নানা দিক থাকতে পারে। গানে সুরে মানুষ নানামাত্রা পাবে।
ছায়ানটের শিল্পীদের কণ্ঠে ‘কান্না-হাসির দোল দোলানো’ গানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা। সবশেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন দর্শক-শিল্পী সকলে।
বইটি প্রকাশ করেছে ছায়ানট। আর এর পরিবেশনায় রয়েছে নবযুগ প্রকাশনী। প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এস। দাম রাখা হয়েছে ৪৫০ টাকা, বিদেশে ৩০ ডলার।
