আব্দুর রহমান আরমান, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) সংবাদদাতা
পঁচাত্তর ঊর্ধ্ব আব্দুস সোবহান ওরফে সুবু। মাথার ওপর ৪০ হাজার টাকা এনজিওর ঋণের বোঝা। ঋণ আর রুটি-রুজির জন্য এই বয়সেও সকাল থেকে রাত পর্যন্ত করেন হাড় ভাঙা পরিশ্রম। জীবনযুদ্ধে পরাজয় মানতে নারাজ আব্দুস সোবহান প্রতিদিন সকালে মানুষের বাসায় বাসায় গিয়ে ভাঙেন ইট আর বিকালে বিক্রি করেন পিঠা। ৫ বছর বয়সে বাবা আব্দুল মাজেদ পরপারে চলে যান। পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে সুবু সবার বড় হওয়ায় তার দায়িত্বও ছিল বেশি। তাই জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে মাত্র সাত বছর বয়সে স্থানীয় একটি চালকলে কাজ করা শুরু করেন তিনি। মা, ভাই ও বোনদের বড় করেন। এর মধ্যে চার ভাই জমি বিক্রি করে মা ও তাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। টানা ২৭ বছর চালকলে কাজ করেন। সেই কলও অবশেষে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর শুরু করেন ইট ভাঙার কাজ। এরই মধ্যে শিশু, কিশোর বয়স পেরিয়ে যুবকে পরিণত হন সুবু। বিয়ে করেন তিনি।
কাকডাকা ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ইট ভেঙে বিকালে পিঠা বিক্রি করে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা রোজগার হয়। সব মিলিয়ে প্রতিদিন তার রোজগার প্রায় ৩০০ টাকা। এ দিয়েই চলে স্বামী-স্ত্রীর সংসার এবং এনজিওর ঋণের সাপ্তাহিক কিস্তি। গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খঞ্জনা গ্রামে জন্ম নেওয়া আব্দুস সোবহান ওরফে সুবু চার মেয়ে ও দুই ছেলের জনক। চার মেয়ের মধ্যে এক মেয়ে শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। বাকি তিন মেয়ে ও দুই ছেলের বিয়ে হয়েছে। দুই ছেলের একজন সৌদি প্রবাসী। অন্যজন স্থানীয় একটি ডেকোরেটরে কাজ করেন। তবে ছেলেমেয়ের কেউই মা-বাবার খোঁজ নেয় না। বাড়ির ভিটেমাটি বলতে আছে মাত্র এক কাঠা জমি। বছর দেড়েক আগে বাকি জমি বিক্রি করে এক ছেলেকে পাঠিয়েছেন সৌদি আরবে। একটি এনজিও থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নেন সুবু। সেই ঋণের প্রতি সপ্তাহের কিস্তি হিসেবে দিতে হচ্ছে ১ হাজার ১০০ টাকা। এ জন্য তাকে সকাল-সন্ধ্যা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে হচ্ছে।
