৮০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও পাচারের মামলায় সেলিমের বিরুদ্ধে চার্জশিট

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৫৫

ইত্তেফাক রিপোর্ট

অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় প্রায় ৮০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও পাচারের অভিযোগে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদন যাচাই বাছাই করে ঐ চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শিগিগরই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান বিচারিক আদালতে এ চার্জশিট জমা দিবেন বলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন। এদিকে সেলিম প্রধানের পাচারকৃত টাকা ফেরত আনতে থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ বরাবরে অনুরোধ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, সেলিম প্রধান অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে ৫৭ কোটি ৭৯ লাখ ২৮৮ টাকার অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করে তা নিজ ভোগ দখলে রেখে দুদক আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে তদন্তের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া অবৈধভাবে উপার্জিত অপরাধলব্ধ আয়ের ২১ কোটি ৯৯ লাখ ৫১ হাজার ১৪৫ টাকা থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করেছেন। এছাড়া তিনি অবৈধভাবে উপার্জিত অপরাধলব্ধ আয়ের উত্স গোপন করে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অবস্থান গোপন করে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

দুদক সূত্র জানায়, ১২ কোটি ২৭ লাখ ৯৫ হাজার ৭৫৪ টাকা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগে গত ২৭ অক্টোবর দুদকের উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সেলিম প্রধানকে আটক করে র্যাব-১। এরপর তার গুলশান, বনানীর বাসা ও অফিসে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ২৯ লাখ টাকা, বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও হরিণের চামড়া জব্দ করা হয়। হরিণের চামড়া উদ্ধারের ঘটনায় ঐ দিনই সেলিম প্রধানকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরদিন গুলশান থানায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও মুদ্রাপাচার প্রতিরোধ আইনে দুটি মামলা করে র্যাব। এরপর তাকে কয়েক দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়।