অবশেষে যুক্তরাজ্যে বড় পরিসরে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। দেশটিতে প্রথমবারের মতো ভ্যাকসিন নিয়েছেন ৯০ বছর বয়সি মার্গারেট কেনান। তিনি নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের এনিস্কিলেন শহরের বাসিন্দা। এর আগেই দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছিল যে, ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) মঙ্গলবার থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করবে। জরুরি ভিত্তিতে ছাড়পত্র পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে পৌঁছায় মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ফাইজারের তৈরি করোনা ভাইরাসের টিকা। এরপর থেকেই অপেক্ষার প্রহর শুরু হয়। কেনানের পর বেশ কয়েক জন নারী ও পুরুষকে এই টিকা দেওয়া হয়।
বিশ্বে প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যে করোনা টিকার কর্মসূচি শুরু হলো। গতকাল সকালে কনভেন্ট্রির ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে করোনার ভ্যাকসিন নিয়েছেন কেনান। তাকে ইনজেকশনের মাধ্যমে করোনা ভ্যাকসিনের ডোজ দেওয়া হয়েছে। তিনি একটি গহনার দোকানে চাকরি করতেন। তার বয়স যখন ৮৬ বছর তখন তিনি কাজ থেকে অবসর নেন। দেশটিতে মূলত করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন এবং বয়স্ক লোকজনকে আগে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। টিকা দেওয়া হবে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও তার স্বামী প্রিন্স ফিলিপকেও। ভ্যাকসিন নেওয়ার পর মার্গারেট বলেন, প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে পেরে আমার নিজেকে ‘বিশেষ কেউ’ মনে হচ্ছে। আর কিছুদিন পরেই আমার জন্মদিন। এটা জন্মদিনের আগে সবচেয়ে ভালো উপহার।
টিকার পরেও উপসর্গ : এদিকে, ফাইজারের টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করার পরেও ক্রিস্টেন চোই নামের যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের এক নার্স করোনার উপসর্গে ভুগছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক পোস্টের তথ্যমতে, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব নার্সিংয়ের সহকারী অধ্যাপক ক্রিস্টেন চোই ফাইজারের টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে অংশ নেন গত আগস্টে।
জামা ইন্টারনাল মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে চোই লেখেন, কোভিড ভ্যাকসিন তৈরির একটি ধাপে অংশ নিতে পেরে তিনি গর্বিত। এতে স্বেচ্ছাসেবী হতে পারাটাকে তিনি ভীষণ সম্মানের বলে মনে করেন। স্বাস্থ্য খাতে নিজের অভিজ্ঞতার কারণেই তিনি এই পরীক্ষা সম্পর্কে ভালোভাবে জানতেন। এ নিয়ে তিনি পড়াশোনাও করেছেন। তিনি লেখেন, ‘কিন্তু গবেষণা ও ভ্যাকসিনটি সম্পর্কে প্রচুর তথ্য জানা সত্ত্বেও আমার পক্ষে এর সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব হয়নি।’
তিনি লেখেন, ‘প্রথম ডোজ গ্রহণের পর গলা খুসখুস করা ছাড়া আর কোনো প্রতিক্রিয়া হয়নি। তবে দ্বিতীয় ডোজটি নেওয়ার পর শরীরের প্রতিক্রিয়া অনেক জোরালো ছিল। যেখানে টিকাটি ইনজেক্ট করা হয়েছিল, সেখানে ভীষণ ব্যথা হয়। প্রথমবারের চেয়ে অনেক বেশি। পরে সর্দিসহ মাথাব্যথা হয়। ঐ দিন রাতে জ্বর আসে। শরীরের তাপমাত্রা ৯৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত ওঠে। পেশিতে ভীষণ ব্যথা হচ্ছিল। পরদিন সকালে জ্বর বেড়ে ১০৪ দশমিক ৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট দাঁড়ায়। আমি ভয় পেয়েছিলাম। কোভিড-১৯ নিয়ে এত দিনের অভিজ্ঞতা থেকে আমার মনে একটি প্রশ্নই বারবার ঘুরপাক খাচ্ছিলাম আমি কি কোভিড আক্রান্ত হলাম।’ পরে গবেষণা দপ্তরে কাজ করা এক নার্স ক্রিস্টিন চোইকে জানিয়েছিলেন, এ ঘটনা শুধু তার ক্ষেত্রেই ঘটেনি। আরো অনেকের ক্ষেত্রেই দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের পর এমন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
অবশ্য এক দিন পরই ইনজেকশনের স্থানটিতে ফোলা ছাড়া আর কোনো লক্ষণ ক্রিস্টিন চোইয়ের শরীরে ছিল না। এ বিষয়ে সে সময়ই কিছু বন্ধুকে তিনি জানিয়েছিলেন। তিনি এখন চান, ফাইজারের এই টিকা দেওয়ার আগে প্রতিটি ব্যক্তির সঙ্গে যেন এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে আলাপ করা হয়।
