উচ্চতা বেড়েছে এভারেস্টের

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:৪৬

নেপাল এবং চীন যৌথভাবে ঘোষণা করেছে যে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টের উচ্চতা আগের সরকারি পরিমাপের চেয়ে ৮৬ সেন্টিমিটার বেড়েছে। দুই দেশ এভারেস্টের নতুন যে উচ্চতায় একমত হয়েছে সেটি হল ৮ হাজার ৮৪৮ দশমিক ৮৬ মিটার। এভারেস্টের উচ্চতা মাপার ক্ষেত্রে পর্বতচূড়ার তুষারসহ উচ্চতা মাপা হবে কিনা তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতানৈক্য ছিল। এর আগে চীন তার সরকারি পরিমাপে এভারেস্টের উচ্চতা ঘোষণা করেছিল ৮ হাজার ৮৪৪ দশমিক ৪৩ মিটার, যা ছিল নেপালের হিসাবের চেয়ে ৪ মিটার কম।

এভারেস্ট চীন এবং নেপালের সীমান্তে। আর দুটি দেশ থেকেই পর্বতারোহীরা এতে আরোহন করেন। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জরিপ বিভাগ জানিয়েছে এভারেস্টের নতুন উচ্চতা মাপতে দুই দেশ সমন্বিতভাবে কাজ করেছে এবং মাপার পদ্ধতি নিয়ে মতৈক্যের ভিত্তিতে তারা কাজ করেছে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গত বছর কাঠমাণ্ডু সফর করার সময় সিদ্ধান্ত হয়েছিল পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থানের নতুন উচ্চতার মাপ দুই দেশ একযোগে ঘোষণা করবে।

চীনা কর্তৃপক্ষ আগে বলেছিল এভারেস্টের উচ্চতা মাপতে হবে শুধু পাথরের উচ্চতার হিসাবে, আর নেপালি কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল পর্বতচূড়া যে বরফে ঢাকা সেই বরফের উচ্চতাও এই মাপে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। চীনা জরিপকারী দল মে মাসে পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছায়। চীনা দলটিই এই বছরে একমাত্র দল যারা এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছেছে। এভারেস্ট চূড়ার উচ্চতা চীনা জরিপকারীরা আগে মেপেছিলেন ২০০৫ সালে এবং তার ভিত্তিতে চীন তাদের উচ্চতার হিসাব দিয়েছিল।

নেপাল সরকার ২০১২ সালে বিবিসিকে বলেছিল যে, চীনের মাপা উচ্চতা মেনে নেবার জন্য বেইজিং তাদের ওপর চাপ দিচ্ছে। এরপরই নেপাল সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা এভারেস্টের উচ্চতা নতুন করে মাপবে যাতে এ নিয়ে বিভ্রান্তি চিরকালের মত দূর হয়।

মাউন্ট এভারেস্টের যে উচ্চতা নেপাল ব্যবহার করছিল, অর্থাত্ ৮ হাজার ৮৪৮ মিটার, সেটা ভারতের এক জরিপে নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৯৫৪ সালে। এই প্রথম নেপাল প্রথমবারের মত তাদের নিজস্ব জরিপ চালাল।  নেপালে চারজন জরিপকারীকে এই মিশনে যাবার আগে দুই বছর ধরে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

দুই দেশের জরিপকারীরা শিখরের উচ্চতা মাপতে ত্রিকোণমিতির ফর্মূলা ব্যবহার করেছেন। কিন্তু খাতা-কলমে এসব অঙ্ক কষার পরেও পর্বত চূড়ার সঠিক উচ্চতা মাপতে হলে পাহাড়ে ওঠার প্রয়োজন আছে।