কুচক্রী মহল উগ্রতা ছড়াচ্ছে, ভাস্কর্যের বিরোধিতা যৌক্তিক

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:২৮

ভাস্কর্য নিয়ে বিরাজমান পরিস্থিতিকে দেশবিরোধী অপশক্তির চক্রান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পির সাহেব সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের দাবিকে কেন্দ্র করে একটি কুচক্রী মহল আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে যখন উগ্রতা ছড়াচ্ছে তখন সরকার তা দমন না করে     তাতে উত্সাহ দিচ্ছে। তিন জন বিশিষ্ট আলেম ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী এবং ধর্মীয় বক্তা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ দেশের ধর্মপ্রাণ সাধারণ মুসলমানরা আজ ঐক্যবদ্ধ। শান্তিপ্রিয় ধর্মপ্রাণ মানুষের ধৈর্যেরও একটা সীমা আছে। আমরা অনেক অপমান সহ্য করেছি। সরকার যদি তাদের সুবিধাভোগী উগ্র সমর্থক এবং দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী শক্তিগুলোর বাড়াবাড়ি ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সাধারণ দেশপ্রেমিক জনতা ও ধর্মপ্রাণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর পুরানাপল্টনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই, প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, আলহাজ খন্দকার গোলাম মাওলা, রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, ও মাওলানা গাজী আতাউর রহমান প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে চরমোনাই পীর বলেন, মূর্তি বা ভাস্কর্য নিয়ে বিরাজমান পরিস্থিতিকে আমরা দেশবিরোধী অপশক্তির চক্রান্ত আকারে দেখছি। আমরা মনে করি, চক্রান্তকারীরা বাংলাদেশের মানুষের ঐক্য বিনষ্ট করে ভিনদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়। সামাজিক ও ধর্মীয় অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চায়। ইসলামী আন্দোলন মনে করে, তাদের এ ভূমিকা বরং বঙ্গবন্ধুকে ছোট করছে। তার সম্মানকে মানুষের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে। এর কোনো দরকার ছিল না জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ মনে করছে, সরকার তাদের ব্যর্থতা দুর্নীতি ও অনিয়ম আড়াল করতেই এ অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে।

তিন বরেণ্য আলেমের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে রেজাউল করীম বলেন, দেশের ওলামা সমাজকে এবং সম্মানিত ধর্মীয় ব্যক্তিদেরকে যারা অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে কটূক্তি করে, ব্যঙ্গ কার্টুন প্রকাশ করে, অপমান-অপদস্ত করে, প্রাণনাশের হুমকি দেয়, তাদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে। সরকার যদি ষড়যন্ত্রকারীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নিজেদের নিরাপত্তা, মর্যাদা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষার প্রয়োজনেই দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

তিনি আরো বলেন, সাতটি মসজিদ-মাদ্রাসার মিলনস্থলে এই ভাস্কর্যটি নির্মাণ না করে বিকল্প কোনো পন্থায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করার দাবি জানিয়েছে তৌহিদি জনতা। শালীন ভাষায়, যৌক্তিকভাবে ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করা হয়েছে। বিষয়টা একেবারেই স্বাভাবিক নাগরিক প্রতিক্রিয়া। একটি সুবিধাবাদী মহল বিষয়টিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে বিশৃঙ্খলা করছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের আলেম-ওলামা চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। আলেম-ওলামারা কোরআন-হাদিসের আলোকে তাদের মতামত দিয়েছে। তারা কাউকে আইন হাতে তুলে নিতে বলেনি।

কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার বিষয়ে করা প্রশ্নের জবাবে রেজাউল করীম বলেন, আমরা শুধু ভাস্কর্য বা মূর্তির ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিতে মতামত প্রকাশ করেছি। কিন্তু মূর্তি ভাঙা বা উসকানির মতামত দিইনি। মূর্তি ভাঙার বিষয়ে পরিষ্কারভাবে বলেছি, যদি কেউ এই ধরনের আচরণ করে থাকে, তাহলে তা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সরকার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, এটা আমরাও সমর্থন করি।

লিখিত বক্তব্যে চরমোনাই পির বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ নামের একটি ভুঁইফোঁড় একটি জঘন্য মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। যারা বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে তার চামড়া খুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে, বঙ্গবন্ধু হত্যার ক্ষেত্র তৈরি করেছে, মৃত্যুর পরে আনন্দ-উল্লাস করেছে, তারাই আজ বঙ্গবন্ধুর সম্মান রক্ষার নামে অপসংস্কৃতি প্রসারে সবচেয়ে এগিয়ে। সরকার যেখানে প্রতিবাদ সমাবেশের অনুমতি দিয়ে যৌক্তিক আলোচনা ও মতামতের পরিবেশ সংযমের সঙ্গে বজায় রেখেছে, সেখানে জনবিচ্ছিন্ন সুবিধাভোগী শ্রেণিটি ওলামায়ে কেরামকে সন্ত্রাসী ভাষায় গালিগালাজ করছে, ঢালাওভাবে অপবাদ দিচ্ছে। মাহফিলের মতো চিরায়ত ধর্মীয় সংস্কৃতিকে উগ্রপন্থায় প্রতিহত করার ঘোষণা দিচ্ছে।