নওগাঁয় বিদ্যুতের ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ, আতঙ্কে এলাকাবাসী

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৪৯

দেখে মনে হবে বিদ্যুতের পরিত্যক্ত সরঞ্জাম এগুলো। কিন্তু কাছে গেলেই আঁতকে উঠা। মিটারে আলো জ্বলছে, চাকাও ঘুরছে। আবার থাম্বা ছাড়াই বাঁশ ও গাছের ওপর দিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়ায় হয়েছে বৈদ্যুতিক লাইন। ইতিপূর্বে এই তারে জড়িয়ে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নওগাঁর রাণীনগর-আত্রাইয়ের বিশ্ব বাঁধের ওপর দিয়ে টানা বিদ্যুৎ সংযোগের চিত্র এটি। আতঙ্কে থাকা এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্তারা মোটা অংকের উৎকোচের মাধ্যমে ৭/৮ কিলোমিটার দূরে থাম্বা ছাড়াই সেচ প্রকল্প ও রাইচ মিলে বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছেন। তবে এমন অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই (নেসকো) কোম্পানি লিমিটেডের নওগাঁর কোনো কর্তা ব্যক্তি কথা বলতে রাজি হননি।

সরজমিনে, রাণীনগর-আত্রাইয়ের বিশ্ব বাঁধের ওপর অরক্ষিতভাবে মাটিতে বিদ্যুতের তার ছড়িয়ে ছিটিয়ে আবার কোথাও ঝুলে থাকতে দেখা গেছে। মিটারের বক্সও ছিল ভাঙা। 

ঘোষগ্রামের সাজ্জাদ হোসেনসহ স্থানীয় রহিম মণ্ডল, কাশেম সরকারসহ অন্যরা জানান, রাণীনগর উপজেলার কুজাইল স্লুইট গেইট থেকে ধনপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৭/৮ কিলোমিটার বাঁশ ও মরা গাছের ওপর দিয়ে থাম্বা ছাড়াই প্রায় ২৫টি বৈদ্যুতিক তার টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ৫/৭ বছর আগে নওগাঁ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে এই অবৈধ বৈদ্যুতিক সংযোগ দেয়। অবৈধভাবে সেচ প্রকল্প ও রাইস মিলে সংযোগ দেওয়া এলাকাবাসী ও পথচারীরা আতঙ্কে থাকেন।


 
স্থানীয় রাশেদ হোসেন, সূরুজ ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, নওগাঁ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা সেচ প্রকল্পের মালিক ও রাইস মিলের মালিকদের কাছে থেকে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে এই অবৈধ সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন। দ্রুত এই ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় গ্রহণ করা হোক। 

আত্রাই উপজেলার বড়কালিকাপুর গ্রামের সাগর হোসেন জানান, এই বাঁধ দিয়ে প্রতি দিন মান্দা, বাগমারা, নওগাঁ সদর রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার শত শত যানবাহন চলাচল করে। দুর্ঘটনা ঠেকাতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

আরও পড়ুন: অল্পের জন্য রক্ষা পেলো আন্তঃনগর দোলনচাঁপা

রাণীনগর উপজেলার মিরাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, নওগাঁ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পরিকল্পনা বিহীন বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে তিনি গুরুত্বর আহত হন। তিনি বৈদ্যুতিক তার বিচ্ছিন্ন না করে দ্রুত থাম্বা স্থাপনের মধ্যে দিয়ে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়া দাবি জানান।

নওগাঁ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ বর্তমানে বে-সরকারি নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি  (নেসকো) লিমিটেডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনির হোসেনের বক্তব্য নিতে গেলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। 

ইত্তেফাক/এসি