গণতন্ত্রের বৃহত্তর স্বার্থে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, নিয়ন্ত্রিত রাজনীতির সীমিত সুযোগেও সরকার নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। আসন্ন পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণ নির্বাচন/উপনির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) এমন অভিযোগ দিয়েছে বিএনপি। এসব নির্বাচনের কোথাও কোথাও তাদের প্রার্থীদের বাধা, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, হামলা, মামলা ও পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। দলটি জানিয়েছে, নির্বাচনে সরকার ও সরকারদলীয় প্রার্থীরা বেপরোয়াভাবে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচারণা, সাধারণ মানুষের ভোটদানে বাধা, সরকারি দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করার সব অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
গতকাল মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীরের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান সালেহ প্রিন্স।
আগামীকাল ১০ ডিসেম্বর দেশের ১০টি উপজেলা, পাঁচটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং মেয়র পদে সাধারণ নির্বাচন/ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এছাড়াও আগামী ২৮ ডিসেম্বর ২৫টি এবং ১৬ জানুয়ারি ৬১টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
খায়রুল কবির খোকনের স্বাক্ষর করা লিখিত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, আমরা বারবার স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে অভিযোগ করার পরও তারা অজ্ঞাত কারণে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে আসছে। বিগত দিনেও দলীয়ভাবে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করার পরও কোনোরূপ প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এ সময় দলটির পক্ষ থেকে কয়েকটি উপজেলা ও পৌর নির্বাচনের বর্তমান সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা প্রায় সব নির্বাচনি এলাকাতেই ঘটছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করার জন্য বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মতিউর রহমান ঝালুকে জিম্মি করে অনৈতিকভাবে চাপ দিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করানো হয়েছে। ফরিদপুর পৌরসভা নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচারণার শুরু থেকেই স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী নেতাকর্মীদের ওপর ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা হুমকি প্রদান করছে এবং গত ৫ ডিসেম্বর বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নায়াব ইউসুফের খাবাসপুরস্থ নির্বাচনি ক্যাম্প রাতের অন্ধকারে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সাধারণ ভোটারদের ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয়ভীতি এবং প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে।
