ইতিহাস বিকৃতি করায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমের লেখা ‘রাষ্ট্র বিপ্লব সামরিক বাহিনীর সদস্যবৃন্দ এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’ নামক বই নিষিদ্ধ করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বিদেশে অবস্থান করা সাংবাদিক কনক সরওয়ারের ইউটিউব চ্যানেলে অলি আহমদের সাক্ষাত্কারসহ বিতর্কিত সব কনটেনট অপসারণ ও বন্ধে পদক্ষেপ নিতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এ সংক্রান্ত এক রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেয়।
আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে রিটকারী পক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক বলেন, গত ১৭ আগস্ট ইউটিউব চ্যানেলে সাংবাদিক কনক সারওয়ার কর্নেল অলি আহমদের সাক্ষাত্কার নিয়েছিলেন। সেখানে অলি আহমদ বলেছেন জিয়াউর রহমান ছিলেন অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট। এই বক্তব্যকেই চ্যালেঞ্জ করেছি এবং উনার বই নিষিদ্ধ করতে আবেদন করা হয়েছে। কারণ ঐ বইয়ের বিভিন্ন স্থানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে অনেক নেতিবাচক কথাবার্তা লেখা হয়েছে। এছাড়াও কনক সরওয়ার ইউটিউবে যেসব বিতর্কিত কনটেনট দিয়েছে সেগুলো বন্ধ করতে আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
কর্নেল অলি আহমদের বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ এনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমেদ আসিফ হাইকোর্টে রিট করেন। সেখানে বলা হয়, অলি আহমদ ১৭ আগস্ট কনক সরওয়ারের ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে একটি সাক্ষাত্কার দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, জিয়াউর রহমান ‘প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি’। অথচ সংবিধানে বঙ্গবন্ধুকে প্রথম রাষ্ট্রপতি বলা হয়েছে এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপরাষ্ট্রপতি। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত এটা নিয়ে কোনো কথা কেউ উত্থাপন করেননি। তাই কর্নেল অলির বক্তব্য ইতিহাস বিকৃতির সমতুল্য।
