অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা আগামী ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। করোনা ছাড়াও এই সময়কালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এরডিসি) থেকে বেরিয়ে যাবে বাংলাদেশ। আগামী পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় করোনার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে গুরুত্ব দিতে হবে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কোভিড-১৯ এবং এলডিসি থেকে উত্তোরণে চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সংলাপে গতকাল মঙ্গলবার বক্তারা একথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। সঞ্চালনা করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমশক্তিদের জন্য পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় গুরুত্ব দিতে হবে। কোভিড-১৯-এর প্রভাবে তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মূল উপস্থাপনায় ড. ফাহমিদা খাতুন উল্লেখ করেন, অনেক সংস্কার ও কৌশল নেওয়ার অবকাশ রয়েছে যেগুলো এখনো নেওয়া হয়নি। সরকারি ব্যয় বাড়ছে কিন্তু, কতটা দক্ষভাবে হচ্ছে সে দিকগুলো খেয়াল রাখতে হবে। ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও বেসরকারি বিনিয়োগ সেভাবে আসেনি। ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ জিডিপির ২৩ শতাংশের মধ্যে আটকে আছে। দুর্নীতি, অপর্যাপ্ত অবকাঠামোর মতো বিষয়গুলো ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় গুরুত্ব দিতে হবে। আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, অতিমারির প্রভাব মোকাবিলায় পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। করোনার প্রভাবে যে দরিদ্র্য মানুষ বেড়েছে তারা মূলত শহুরে দরিদ্র্য। নতুন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা জনস্বাস্থ্য খাতে গুরুত্ব দিতে হবে। পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, বিনিয়োগের সঙ্গে প্রবৃদ্ধির অসংগতি রয়েছে। সারাবিশ্বে প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগ বাড়ে কিন্তু এখানে বিনিয়োগ বাড়ছে না কিন্তু প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। এ বিষয়ে সুস্পস্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। আর্থিক খাতের মধ্যে ব্যাংক, শেয়ারবাজারে সমস্যা দীর্ঘ দিনের। এখানে আমরা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছি। এ সমস্যা ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় হয়নি, ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়ও হয়নি। ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কীভাবে হবে সে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আমি আশাবাদী নই, কারণ সমস্যার ওপর প্রলেপ দিচ্ছি মাত্র, সমাধান করছি না। মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) সংস্কারে আমরা অনেক পিছিয়ে যাচ্ছি। সংস্কারতো হয়নি বরং এটি চালু হওয়ার আগের সময় অর্থাত্ ১৯৯১ সালের চেয়েও পিছিয়ে যাচ্ছি। এর ফলে আমাদের এসএমই খাত বিশাল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বহুস্তর বিশিষ্ট ভ্যাট ব্যবস্থা কোথাও নেই। আমরা বড় বড় কথা বলি ট্যাক্স সিস্টেম নিয়ে কিন্তু সংস্কার করছি না। প্রতিটি পরিকল্পনায় সুন্দর সুন্দর কথা বলা হয় কিন্তু বাস্তবায়ন হয় না। আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী, এমপি, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম, এমসিসিআই প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার নিহাদ কবীর প্রমুখ বক্তব্য দেন।
