সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন আয়োজিত আলোচনাসভায় বক্তারা বলেছেন, ২০১৪ সালের পর দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার ভিত পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় সরকারে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন সামাজিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে এসেছে। লাইনচ্যুত ভোটের ট্রেনকে সঠিক ট্র্যাকে আনার কাজ ২০২০-২১ সালের স্থানীয় নির্বাচন থেকে শুরু করতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার ‘কার্যকর-গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে করণীয়’ শীর্ষক এই ভার্চুয়াল সভার আয়োজন করা হয়। সভার সূচনা বক্তব্যে সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার বলেন, ২০২০ ও ২০২১ সালে পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের বেশ কয়েকটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
সুজনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সিকান্দার খানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টি-জেপির মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, সাবেক সচিব আবদুল লতিফ মণ্ডল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত, লেখক ও কলামিস্ট এম এস সিদ্দিকী, রাজনীতিবিদ রাজেকুজ্জামান রতন, সুজনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুসবাহ আলীম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রতিনিধি ফিরোজ আহমেদ প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।
সভায় ‘আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন দিয়ে শুরু হোক শুদ্ধ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের অভিযাত্রা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ। তাতে বলা হয়, ২০১৪ সালের পর দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার ভিত পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ভোট দেওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ভোটের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সরকারি কর্মচারীদের ভূমিকায় এসেছে আমূল নেতিবাচক পরিবর্তন। লাইনচ্যুত ভোটের ট্রেনকে সঠিক ট্র্যাকে আনার কাজ ২০২০-২১ সালের স্থানীয় নির্বাচন থেকে শুরু করতে হবে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর জন্য প্রবন্ধে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। তার মধ্যে নির্বাচনকালীন স্থানীয় প্রশাসনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনের নেওয়া, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনা বাধ্যতামূলক, নির্বাচনি সহিংসতা রোধে আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া, ইভিএম মেশিনে পেপারটেইল যুক্ত করে ভোট পুনর্গণনার ব্যবস্থা করা, সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের কমিশনের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা দেওয়া, নির্বাচনকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডে নাগরিক সংগঠন, বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যমের সম্পৃক্ততা বাড়ানো অন্যতম।
শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সংস্কার করতে হলে স্থানীয় সরকার কমিশন গঠন করতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকার যে দলেরই হোক এই কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক করা উচিত।
এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো আগে দখলকৃত হয়নি। এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য টাকার খেলা শুরু হয়ে গেছে। পুরো ব্যবস্থাকে না বদলালে এবং সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা ছাড়া অবস্থার পরিবর্তন হবে না।
সাবেক সচিব আবদুল লতিফ মণ্ডল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা, ভোট ডাকাতি শুরু হয়েছে আইন বদলের কারণে। স্থানীয় সরকারে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন সামাজিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে এসেছে।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, স্থানীয় উন্নয়নে সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংবিধান লঙ্ঘন করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বর্ধিত অংশ হিসেবেই রয়ে গেছে স্থানীয় সরকার।
রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, এমপিতন্ত্রের নামে জমিদারতন্ত্র চলছে। এই জমিদারতন্ত্র না ভাঙতে পারলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা যাবে না।
