দিনাজপুর ও কুষ্টিয়ায় অস্থির চালের বাজার!

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:২০

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর

নতুন ধান উঠলেও দিনাজপুরে অস্থির হয়ে উঠেছে চালের বাজার। প্রতিদিন লাফিয়ে বাড়ছে চালের দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে দিনাজপুরে ৫০ কেজির বস্তাপ্রতি চালের দাম বেড়েছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, আর কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে তিন থেকে চার টাকা। বাজারের চাল বিক্রেতারা বলছেন, নতুন ধান উঠলেও মিলমালিকরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় বাজারে চালের দাম বেড়েছে। আর মিলমালিকরা বলছেন, বাজারে ধানের দাম বেশি থাকার কারণেই ধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নির্ধারিত হয়েছে চালের দাম। গত মঙ্গলবার দিনাজপুর শহরের প্রধান চালের বাজার বাহাদুরবাজারে গিয়ে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৫০ কেজির মিনিকেট চালের বস্তা ২ হাজার ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৮০০ টাকা, বিআর-২৮ জাতের চাল ২ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা, সুমন স্বর্ণ চাল প্রতি বস্তা ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে প্রতি কেজি চালের দাম বেড়েছে তিন থেকে চার টাকা। নতুন ধান উঠলেও প্রতি সপ্তাহেই লাফিয়ে লাফিয়ে চালের এই দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন ভোক্তারা। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ চাল কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। বাহাদুরবাজারে চাল কিনতে আসা মনসুর আলী জানান, দিনে যা আয় করি, তা চাল কিনতেই শেষ। এরপর তরিতরকারির দামও বেশি। এই অবস্থা চললে পরিবার পরিজনের মুখে আহার জোগাতে হিমশিম খেতে হবে তাদের।

বাহাদুরবাজারের চাল বিক্রেতা ‘মেসার্স অন্ন ঘর’-এর মালিক লিয়াকত আলী জানান, প্রতি বছর নতুন ধান উঠলে চালের দাম কমে। কিন্তু এবার মিলমালিকরা এক সপ্তাহের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। তিনি বলেন, বেশি দামে চাল কিনে বাধ্য হয়েই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাল বিক্রি করতে গিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রায়ই বচসা হচ্ছে তাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাহাদুরবাজারের আরেক চাল বিক্রেতা বলেন, মিলমালিকরা এবার সিন্ডিকেট করেই চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। নতুন ধান উঠলেও কমিয়ে দিয়েছে চালের সরবরাহ। এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলা চালকল মালিক সমিতির নেতা সহিদুর রহমান পাটোয়ারী মোহন বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার বস্তাপ্রতি ধানের দাম ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা বেশি। এটিকে শুভলক্ষণ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এতে কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন এবং উপকৃত হচ্ছেন। ধানের দাম ভালো থাকলে কৃষকরাও বাঁচবে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে, তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে চালের দাম তুলনামূলক কমই আছে বলে দাবি করেন চালকল মালিক মোহন পাটোয়ারী।

এদিকে কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, খাজানগর মোকামে ভরা মৌসুমে চালের দাম আবারও বেড়েছে। গত বোরো ও চলতি আমন মৌসুমে ভালো ফলন ও আশানুরূপ ধান উত্পাদন হলেও চালের বাজারের চিত্র সম্পূর্ণ উলটো। মোকামে চালের বাড়তি দামের কারণে খুচরা বাজারে একলাফে বেড়েছে কেজিতে পাঁচ-ছয় টাকা।

কুষ্টিয়া পৌর বাজারের পাইকার ব্যবসায়ী আলী আকবর জানান, ধানের দাম বাড়তির অজুহাতে মোকামে চালের দাম বস্তাপ্রতি বাড়ানো হয়েছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। খাজানগর মোকামের অটো রইচ মিল কাবিল অ্যাগ্রো ফুডের মালিক ইসমাইল হোসেন মুরাদ জানান, ধানের বাড়তি দামের কারণে চালের দাম বেড়েছে। জেলা বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ধানের ক্রয়মূল্য থেকে চাল উত্পাদনসহ ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছানো খরচ মিটিয়ে ব্যবসায়ীরা কেজি প্রতি দুই টাকা লাভে বিক্রি করতে পারবেন। এর বেশি লাভে বিক্রি করলে তা হবে অযৌক্তিক। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন, ‘অযৌক্তিক দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। চাল বাজারে কেউ অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’