বন্যায়ও ভালো ফলন পেয়েছেন কৃষক

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:২৪

বিনাধান-১৭

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় গোপালগঞ্জে আমনের চাষ বাধাগ্রস্ত হলেও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল আমন ধানের জাত বিনাধান-১৭-এর ভালো ফলন হয়েছে। খরা ও বন্যাসহিষ্ণু স্বল্প জীবনকালের এই ধান চাষ করে হেক্টরপ্রতি পাঁচ টন ফলন পেয়েছেন কৃষক। কম খরচে বেশি ধান পেয়ে খুশি তারা। গোপালগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্র জানিয়েছে, চলতি আমন মৌসুমে গোপালগঞ্জের পাঁচ উপজেলার ২৫ একর জমিতে বিনাধান-১৭ আবাদ হয়েছে।

কাশিয়ানী উপজেলার পশ্চিম মাঝিগাতী গ্রামের কৃষক লেলিন খন্দকার বলেন, ‘বিনাধান-১৭ অন্তত তিন বার বন্যার কবলে পড়েছে। তার পরও ভালো ফলন পেয়েছি।’ গোপালগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম আকন্দ বলেন, জলাবদ্ধতা, খরা, রোগবালাইসহিষ্ণু এই ধানের জাতটি আমন মৌসুমের প্রচলিত জাতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ফলন দিয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী বন্যার মধ্যেও হেক্টরপ্রতি এর ফলন হয়েছে পাঁচ টন। প্রচলিত জাত ফলন দেয় আড়াই থেকে তিন টন। পানি সেচ, সার ও কীটনাশক কম লেগেছে। তাই উত্পাদন খরচে সাশ্রয় হয়েছে। স্বল্প খরচে অধিক ধান উত্পাদন করে কৃষকেরা লাভবান হয়েছেন। বিনার মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. জহুরুল ইসলাম জানান, স্বল্প জীবনকালসম্পন্ন এই ধান চাষের সুবাদে বছরে দুটি ফসলের পরিবর্তে কৃষকেরা একই জমিতে তিনটি ফসল করতে পারছেন। এছাড়া বিনাধান-১৭ জাতটি খরা ও জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে।